কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি আবার কোথাও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সাক্ষী থাকছে শহরবাসী। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলের পর থেকে শহরের বেশ কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকায় ভ্যাপসা গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না।
আগামী দিনগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মহালয়ার সকালে আকাশ পরিষ্কার থাকার এবং রোদ ঝলমলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেবীপক্ষের সূচনার আগে শহরবাসী মেঘমুক্ত আকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। সাধারণত মহালয়ার ভোরেই বাঙালির ঘরে ঘরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠের সুর শোনা যায়, আর এবার আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা থাকায় শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞের মাঝেও আবহাওয়ার এই খবর সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের নানা রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে শহরবাসীর নজর এখন শরতের এই আকাশের দিকেই। উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানাতেও পুজোর মরসুমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকত সাধারণ মানুষের মধ্যে। বর্তমানে শাসক দল বিজেপি রাজ্যের উন্নয়নে এবং উৎসবের সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিকতম বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমবে। বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাব কাটতে শুরু করায় মেঘের আনাগোনাও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে মহালয়ার দিন সকাল থেকেই আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। তবে বিকেলের দিকে স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চারের ফলে দু-এক পশলা বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করবে।
শহরের বাসিন্দারা বৃষ্টির হাত থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে চাইছেন, কারণ গত কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরম জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। বিশেষ করে পুজোর কেনাকাটা করার জন্য যারা রাস্তায় বেরোচ্ছেন, তাদের কাছে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমার খবরটি নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, পুজোর দিনগুলোতে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত কম। তবে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কিছুটা ভোগাতে পারে।
কলকাতার আকাশ পুরোপুরি মেঘমুক্ত হতে আরও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় নিতে পারে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও সেখানে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা আপাতত নেই। রাজ্যের সামগ্রিক আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে হাওয়া অফিস। মহালয়ার পর থেকেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন শহরবাসী। প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছে জোরকদমে। তাই বৃষ্টির হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার খবর নিঃসন্দেহে উৎসবের আয়োজকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
সব মিলিয়ে, মহালয়ার দিন সকাল থেকে রোদ ঝলমলে আকাশ শহরবাসীকে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। উৎসবের মরসুমে আকাশের রূপ কেমন থাকে, সেদিকেই এখন সবার চোখ। আবহাওয়া দপ্তর নিয়মিত ব্যবধানে রাজ্যবাসীকে আপডেট প্রদান করছে যাতে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকলে আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। আপাতত শরতের আকাশের এই নির্মল রূপ বাঙালির মনে পুজোর আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।








