ক্যামাক স্ট্রিটের বহুতলে অগ্নিকাণ্ড, কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ক্যামাক স্ট্রিটের একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই দমকল বাহিনীর একাধিক ইঞ্জিন দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দ্রুত তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক তদন্তের পর দমকল আধিকারিকরা ভবনের অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ভবনের কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, যদি অগ্নি-সুরক্ষা বিধি যথাযথভাবে মেনে চলা না হয়, তবে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য যে, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার প্রশাসনিক বৈঠকে বাণিজ্যিক ভবনগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার তুলনায় বর্তমানে নিরাপত্তা বিধি নিয়ে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে রাজ্যের দমকল বিভাগ। শহরের ব্যস্ততম এলাকায় এই ধরনের অগ্নি-সংকট ফের একবার শহরের পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকরগুলি সামনে এনে দিল।

দমকল বিভাগের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ভবনটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকলেও তার রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে গাফিলতি রয়েছে। আগুনের উৎসস্থল এবং এর নেপথ্যে কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। ভবনের প্রতিটি তলায় অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যদি কোনো নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সেই ভবনের মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার পর প্রশাসনের বিরুদ্ধে নজরদারির অভাবের অভিযোগ তুলেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, শহরের একের পর এক বহুতলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রমাণ করে যে, যথাযথ প্রশাসনিক তদারকি হচ্ছে না। তবে রাজ্যের বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে, দমকল বিভাগ নিজের দায়িত্ব পালন করছে এবং জনসুরক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার দিন ক্যামাক স্ট্রিটের রাস্তায় যান চলাচলের ক্ষেত্রে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। দমকলের কর্মীদের মূল লক্ষ্য ছিল আগুন যেন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য ভবনে ছড়িয়ে না পড়ে। বহুতলের অন্দরে থাকা অনেক অফিসকর্মীরা আতঙ্কে দ্রুত বেরিয়ে আসেন। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কয়েকজন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

শহরের নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ। বহু পুরনো ভবনে অগ্নি-সুরক্ষা বিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বর্তমান প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান কি ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় রুখতে পারবে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ক্যামাক স্ট্রিট এবং সংলগ্ন এলাকার সমস্ত বাণিজ্যিক ভবনে বিশেষ অডিট চালানো হবে। যদি কোথাও বিধিভঙ্গের নিদর্শন মেলে, তবে তড়িঘড়ি নোটিশ পাঠানোর কাজ শুরু করবে দমকল দফতর।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ৯ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখের। ঘটনার সময় ও প্রকৃত কারণ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ স্থানীয় থানা এবং দমকল বিভাগের সাথে সমন্বয় রেখে পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি আপাতত সিল করে দেওয়া হতে পারে বলে দমকল সূত্রের খবর। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভবনের সংশ্লিষ্ট অংশ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী পর্যালোচনার পর।