মার্কিন রাজনীতির আঙিনায় ফের একবার জোরালো বিতর্ক তৈরি করলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে ট্রাম্প সরাসরি ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছেন যে, এখন সময় এসেছে ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের আবহে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন গোটা বিশ্ব কিয়েভের নেতৃত্বের স্থায়িত্ব এবং তাদের রণকৌশল নিয়ে নানা জল্পনায় মশগুল, তখন ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আক্রমণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রবল চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরেই নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও এক বড় ধরনের পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য যে, শুক্রবার এক বিশেষ বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই দাবি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিতর্কিত। রাশিয়ার ওপর যখন পশ্চিমা দুনিয়া, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নানাবিধ কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে, সেই ক্রান্তিলগ্নে ট্রাম্পের এই ডিজেল চুক্তিকে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই চুক্তির পরবর্তী প্রভাব মার্কিন অর্থনীতি এবং বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে কতটা গভীর প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করার চেষ্টা চলছে, তখন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন ধাঁধার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। কেন তিনি হঠাৎ এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য করলেন বা এর নেপথ্যে কোন কূটনৈতিক ছক কাজ করছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ওয়াশিংটনের অন্দরে ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ইউক্রেনকে কিছুটা চাপের মুখে ফেলল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে যখন জেলেনস্কি সারা বিশ্বের কাছে সামরিক এবং আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ও সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের এই ধরনের মন্তব্য ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এটি ইউক্রেনের মনোবল ভাঙার জন্য রাশিয়ার একটি বড় রাজনৈতিক জয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এই পুরো বিষয়টি নিয়ে অবশ্য ইউক্রেনীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য যে আগত দিনগুলোতে মার্কিন-ইউক্রেন সম্পর্কের সমীকরণ আমূল বদলে দিতে পারে, তা স্পষ্ট। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আবহে ট্রাম্পের এই ডিজেল সংক্রান্ত চুক্তি এবং জেলেনস্কি বিরোধী মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়েও বিশ্বজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের এই তথাকথিত সমঝোতা ইউক্রেনের যুদ্ধজয়ের প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। যদি ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসেন, তবে ওয়াশিংটনের এই নীতি যে কিয়েভের জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি এবং শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোচনার রেশ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক স্তরের এই অস্থিরতা ভারতীয় রাজনীতির ওপরও পরোক্ষ প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের গভীর নজর রয়েছে। বিশেষ করে তেলের দাম এবং ভূ-রাজনীতির এই অস্থিতিশীলতা ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ শাসনকালের তুলনায় বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হচ্ছে। একদিকে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব—সব মিলিয়ে এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
সার্বিক এই পরিস্থিতির নিরিখে ট্রাম্পের দাবি কতটা বাস্তবসম্মত বা এর নেপথ্যে কোন গভীর কূটনৈতিক কৌশল লুকিয়ে আছে, তা সময় বলবে। ডিজেল সরবরাহ ও নতুন নেতৃত্বের দাবি—এই দুই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী দিনের বিশ্ব রাজনীতির অভিমুখ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি যে ক্রমশই মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি যে বিশ্বশান্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হয়ে উঠছে, তা ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য পুনরায় প্রমাণ করল। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে বাইডেন প্রশাসন বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই মন্তব্যের বিপরীতে কী ভূমিকা গ্রহণ করে।








