কলকাতা বিমানবন্দরে যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ অভিযান শেষ হলো। টানা ২৪ দিন ধরে চলা এই কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল বিমানবন্দর চত্বরে পরিষেবার আধুনিকীকরণ এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক করে তোলা। বিমানবন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রী পরিষেবার প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখা হয়েছে। ২৪ দিন ধরে চলা এই কর্মযজ্ঞের অঙ্গ হিসেবে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর মানোন্নয়ন, যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিষেবার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার পথে যাত্রীদের যে সমস্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো, তা দূর করাই ছিল এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। বিমানবন্দরের টার্মিনাল চত্বরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে বোর্ডিং গেট এবং লাগেজ হ্যান্ডলিং পরিষেবার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা সময়সূচি সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা যাতে ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়, তার জন্য গত ২৪ দিন ধরে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পর রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাজ্যের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে যে পরিকাঠামো গড়ে উঠেছিল, বর্তমানে তা আধুনিকীকরণের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে বিজেপি সরকার। বিরোধীরা অবশ্য এই প্রকল্প নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করলেও, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় রানওয়ে এবং ট্যাক্সি-ওয়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজেও গতি আনা হয়েছে। যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে যাতে না হয়, সেজন্য অটোমেটেড চেক-ইন কিওস্ক এবং ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ভেতরে বিভিন্ন স্টল এবং যাত্রী সুবিধাকেন্দ্রগুলির মানও নতুন করে খতিয়ে দেখা হয়েছে। ২৪ দিনের এই বিশেষ অভিযানে বহু তরুণ ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রযুক্তিবিদদের কাজে লাগানো হয়েছিল। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ আলোকসজ্জা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কাজও এই সময়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, এই অভিযান শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। আগামী দিনে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রযুক্তির সংযোজন অব্যাহত থাকবে। যাত্রীদের অভিযোগ শোনার জন্য বিশেষ হেল্পলাইন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগের ফলে কলকাতা বিমানবন্দরের কাজের দক্ষতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, গত ২৪ দিনে যেসব প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নতুন করে বসানো হয়েছে, তা বিমানবন্দর পরিচালন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিমানযাত্রীদের সময় যেমন সাশ্রয় হবে, তেমনি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কোনো আপস করা হবে না। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি বারবার দাবি করে আসছে যে, পশ্চিমবঙ্গের বিমান পরিষেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে তারা বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দরের এই পরিকাঠামোগত উন্নতি সেই লক্ষ্যেই একটি বড় পদক্ষেপ। তবে বিরোধীদের তরফে তৃণমূল কংগ্রেস এই উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, সাধারণ যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া আপাতত ইতিবাচক। বিমানবন্দরের প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, ২৪ দিনের এই কর্মযজ্ঞ শেষ হলেও এর প্রভাব আগামী বেশ কয়েক বছর ধরে বিমানবন্দর পরিষেবায় অনুভূত হবে।








