‘পুরো রেকর্ডিং দেখান, অর্ধেক নয়’, দিল্লি পুলিশের ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিজিৎ দীপকে

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে কড়া আক্রমণ করেছেন। মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দিল্লি পুলিশ তাদের পুরুষ কর্মীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ থেকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে মহিলা পুলিশ কর্মীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। তিনি আরও বলেন যে, তাঁকে তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। দীপকে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ভিডিওটির একটি সম্পাদিত সংস্করণ দেখানোর অভিযোগ করেন এবং বলেন যে সম্পূর্ণ রেকর্ডিংটি প্রকাশিত হলে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে তা জনগণ জানতে পারবে।

দিল্লি পুলিশের কার্যপদ্ধতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিজিৎ দীপক বলেন, পুলিশ সম্ভবত ভয় পাচ্ছিল যে, তাদের পুরুষ কর্মীরা সামনে থাকলে নারী শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে তারা বিব্রত বোধ করবে।

দীপক বলেন, “সম্ভবত এই লজ্জা ও অপমান এড়াতেই তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মহিলা কর্মীদের সামনে রেখেছিল। এটা ছিল নিজেদের রক্ষা করার একটি কৌশল, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অন্যায় কিছু ঘটলে তারা অনুচিত আচরণের অভিযোগ তুলতে পারে। কিন্তু আমি এটা স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, আমরা সভ্য ও শিক্ষিত মানুষ। আমরা নারীদের সম্মান করতে জানি; আমরা পুলিশের মতো গুন্ডামিতে লিপ্ত হই না।”

দিল্লি পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিওটির সমালোচনা করে দীপক বলেন যে, পুলিশ জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটি সম্পাদিত ভিডিও দেখাচ্ছে। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেন, যদি তাদের মধ্যে সামান্যতম সাহস বা সততাও অবশিষ্ট থাকে, তবে তারা যেন কোনো কাটছাঁট ছাড়াই সম্পূর্ণ ভিডিওটি প্রকাশ করে। পুরো ভিডিওটিতে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে যে, আমি আমার কাজিনের সাথে মাত্র দুই মিনিটের জন্য হলেও কথা বলার জন্য বারবার আমার ফোনটি চেয়েছিলাম। আমি আমার আইনজীবীর সাথে সংযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্যও বারবার অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু পুলিশ আমার কথা শুনতে রাজি হয়নি।

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা বলেছেন যে, ভারতীয় আইন আটক বা গ্রেফতারের সময় প্রত্যেক নাগরিককে কিছু মৌলিক অধিকার প্রদান করে। নিজ আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুমতি পাওয়া ব্যক্তির একটি আইনগত অধিকার। তিনি অভিযোগ করেছেন যে দিল্লি পুলিশ তাঁকে এই মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত করেছে।