সরকারি স্কুলগুলির অবস্থা নিয়ে চলমান ‘ফিক্স দ্য স্কুলস’ অভিযানের মধ্যেই সিজেপি এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবনের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটি দাবি করেছে যে শুধুমাত্র ২০২৫-২৬ সালেই মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবনের রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ৯২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
সিজেপি বলেছে যে, যখন দেশের অনেক সরকারি স্কুলের শিশুরা পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধাও পেতে সমস্যায় পড়ে, তখন সরকারি বাংলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
Abhijeet Dipke visited government schools in Latur, Maharashtra, and the condition is really bad.
These little kids are deprived of benches and forced to sit on the floor.
The washrooms are in such a terrible condition that it’s unbearable to even stand next to them.
Are we…
— Cockroach Janta Party – CJP (@Cockroachisback) August 20, 2026
১২ বছরে ৫৪৭ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়
সিজেপি-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণে মোট ৫৪৭.৬৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। দলটির দাবি, এই পরিসংখ্যান আরটিআই-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রায় ১৩৩.৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এরপর ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা হয়। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১৭৪.৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
Stop fixing your lavish homes, and fix the schools!
Rs 92 crore = 10 new world class government schools.
The money is available, the intent to use it for government schools is missing. https://t.co/tH5canYwLx
— Cockroach Janta Party – CJP (@Cockroachisback) August 23, 2026
৯২ কোটি টাকা দিয়ে ১০টি ভালো স্কুল নির্মাণ করা সম্ভব
এই পরিসংখ্যানটিকে তাদের ‘স্কুলগুলো ঠিক করো’ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করে সিজেপি বলেছে যে, ৯২ কোটি টাকা দিয়ে প্রায় ১০টি আধুনিক সরকারি স্কুল তৈরি করা যেত। দলটি প্রশ্ন তুলেছে, যখন গ্রামীণ স্কুলগুলোতে মৌলিক পরিকাঠামোরই অভাব, তখন সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?
দলটি ১৫ই আগস্ট এই অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের আওতায় গ্রামীণ সরকারি স্কুলের শিশুদের বিদ্যুৎ, পানীয় জল, শৌচাগার, মধ্যাহ্নভোজ এবং পরিবহন ব্যবস্থার অবস্থার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
পিএম কেয়ার্স ফান্ড নিয়েও প্রশ্ন
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এর আগেও পিএম কেয়ার্স ফান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। গ্রামীণ স্কুলগুলোর অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, শিশুদের জন্য আরও ভালো স্কুল তৈরিতে এই তহবিল কেন ব্যবহার করা যায় না।
তিনি জানান যে, ২০২৪-২৫ সালের জন্য পিএম কেয়ার্স ফান্ডের তহবিল ছিল প্রায় ৮,৪৫২ কোটি টাকা। দীপকের মতে, যদি একটি আধুনিক স্কুল তৈরি করতে প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ হয়, তবে সেই টাকা দিয়ে বহু সংখ্যক মডেল স্কুল তৈরি করা যেতে পারে।
বিজেপির জবাব
প্রধান বিচারপতির অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। দলটি বলছে, পিএম কেয়ার্স ফান্ড জরুরি ও দুর্যোগ ত্রাণকার্যে ব্যবহৃত হয়। বিজেপি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তহবিলটি সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেছে।
এই পুরো বিতর্কটি সরকারি ব্যয় এবং তার অগ্রাধিকার নিয়ে নিঃসন্দেহে একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যেখানে প্রধান বিচারপতি স্কুল সুবিধার বিষয়টি উত্থাপন করছেন, সেখানে বিজেপি পিএম কেয়ার্স ফান্ডের ব্যবহার নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।








