১৫ বছরের হয়রানির অবসান, প্রশাসনিক তৎপরতায় নতুন অটো হাতে পেলেন বিজয়গড়ের মা-মেয়ে

প্রণব বিশ্বাস,কলকাতা: কোনো রূপকথার গল্প নয়, সরকারি দপ্তরের লাল ফিতের ফাঁস ছাড়িয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর পর অবশেষে ন্যায় বিচার ও জীবিকার নতুন আলো দেখলেন দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড়ের বাসিন্দা মৌসুমী পাল ও তাঁর মা মিতালী পাল। ২০১১ সাল থেকে চলা দালালের প্রতারণা, নথিপত্রের জট আর দাপ্তরিক নানা অজুহাতের পাহাড় ঠেলে অবশেষে নিজেদের নতুন অটো-রিকশা বুঝে পেলেন তাঁরা।
২০০৫ সালে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবার মৃত্যুর পর সংসার চালাতে যাদবপুর-রানিকুঠি রুটে চলা অটো ব্যবসাই হয়ে উঠেছিল মা-মেয়ের বেঁচে থাকার মূল সম্বল। ২০১১ সালে সেই অটোটিকে পেট্রোল থেকে এলপিজি-তে রূপান্তর ও প্রয়োজনীয় নথির আবেদনের জন্য আলিপুর আরটিও-র (RTO) দ্বারস্থ হন মৌসুমী। কিন্তু সেখানে এক অসাধু দালালের খপ্পরে পড়ে পারমিট, সিএফ (CF) ও বিমার টাকা খুইয়ে শুরু হয় চরম অনিশ্চয়তা। এরপর বছরের পর বছর আরটিও অফিসে চক্কর কাটলেও কপালে জুটেছে কেবল আধিকারিকদের বদলি কিংবা অফিসে অগ্নিকাণ্ডের মতো অজুহাত।
অবশেষে হাল না ছেড়ে সরাসরি পরিবহণ মন্ত্রীর দপ্তরে নিজেদের ভোগান্তির কথা জানান মৌসুমী ও মিতালী দেবী। মন্ত্রীর নির্দেশে শুরু হয় দ্রুত তদন্ত। বেরিয়ে আসে বকেয়া কর, অমীমাংসিত সিএফ ও বিমা সংক্রান্ত নানা অনিয়ম। পরবর্তীতে আলিপুর আরটিও-র নতুন প্রধান অমিতাভ মজুমদারের বিশেষ উদ্যোগ ও দাপ্তরিক সদিচ্ছায় সব সমস্যার প্রশাসনিক সমাধান ঘটে। পারমিটের অফিসিয়াল মুদ্রিত প্রতিলিপি হাতে পাওয়ার পর, গত ২রা নভেম্বর অবশেষে নিজেদের নতুন অটো-রিকশাটি বুঝে পান তাঁরা।
১৫ বছরের আইনি ও দাপ্তরিক টানাপোড়েন শেষে নতুন গাড়ি হাতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মৌসুমী। সরকারি এই রূপান্তর ও প্রশাসনিক সহযোগিতায় অভিভূত হয়ে তিনি পরিবহণ মন্ত্রী, অর্জুন সিং এবং আলিপুর আরটিও-র সমস্ত আধিকারিকদের প্রতি বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।