নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করল বিমান পরিষেবার ওপর। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা ধাপে ধাপে টিকিটের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে। বিশেষত ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমানের জ্বালানি বা এয়ার টারবাইন ফুয়েলের (ATF) দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলি বিপুল আর্থিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। এই চাপ সামাল দিতেই এয়ার ইন্ডিয়া মূলত তিন দফায় বা তিনটি পর্যায়ে ফুয়েল সারচার্জ কার্যকর করার কথা জানিয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের পকেট থেকে বাড়তি টাকা খসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ পাল্লার আন্তর্জাতিক উড়ান এবং কিছু অভ্যন্তরীণ রুটেও এই বর্ধিত ভাড়ার প্রভাব পরিলক্ষিত হতে পারে।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, জ্বালানির এই অতিরিক্ত খরচ সরাসরি টিকিটের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তিনটি পর্যায়ের এই রূপায়ণ প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে ধাপে ধাপে ভাড়ার পরিবর্তন ঘটে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার জন্য বিমানগুলিকে এখন অনেকটা পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। এতে যেমন সময়ের অপচয় হচ্ছে, তেমনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানির ব্যবহার।
সাধারণত বিমানের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ খরচ হয় জ্বালানি বাবদ। ফলে তেলের দাম সামান্য বাড়লেও তার বড় প্রভাব পড়ে বিমান সংস্থার ব্যালেন্স শিটে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের যে প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়ছে, তার থেকেই নিজেদের সুরক্ষিত করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি। এই ভাড়া বৃদ্ধি সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিন্তায় ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এয়ার ইন্ডিয়ার এই সিদ্ধান্তের পর অন্যান্য বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলিও একই পথে হাঁটতে পারে। যদি যুদ্ধের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিমান ভাড়ার এই ঊর্ধ্বগতি আরও কিছু সময় বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত এয়ার ইন্ডিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে এই তিন পর্যায়ের সারচার্জ আরোপের প্রক্রিয়াটি দ্রুত কার্যকর করতে চলেছে। এতে যাত্রীদের আগাম টিকিট বুকিং করার ক্ষেত্রেও কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যাত্রী পরিষেবার মান বজায় রাখতে এবং সংস্থার আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত অপরিহার্য ছিল বলেই মনে করছে কর্তৃপক্ষ।








