মদ্যপান করিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ, চাঞ্চল্য শহরতলিতে

কলকাতা শহরতলির এক এলাকায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ তদন্তে নেমেছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার ওই তরুণীকে অছিলায় একটি নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা তাকে জোর করে বিয়ার পান করতে বাধ্য করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে অসহায় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়। তরুণীটিকে গুরুতর অবস্থায় ফেলে রেখে অভিযুক্তরা এলাকা থেকে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে ওই তরুণী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের দাবি, তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। এই ঘটনার পরেই নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

তদন্তকারী এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এলাকাটিতে এই ধরনের অমানবিক ও নৃশংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত তৎপর বলে দাবি করা হলেও, এই ধরনের ঘটনা সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার পর কঠোর আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে যখন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস সোচ্চার, ঠিক সেই সময়ে এই ধরনের জঘন্য অপরাধ প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে নারী সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে যেভাবে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও সেই একই উদ্বেগের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ঘটনার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্তদের পরিচয় বা ঠিক কতজন এই অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল, সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বর্তমানে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তদন্তের স্বার্থে এখনই অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় থানা। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। তরুণীর গোপন জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অপরাধীদের পাকড়াও করার জন্য পুলিশের বিশেষ দল বা স্পেশাল টিম গঠন করা হতে পারে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দোষী কাউকেই ছাড়া হবে না। অন্যদিকে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়টিকে ইস্যু করে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। সংবাদটি লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তরা পলাতক এবং তাদের সন্ধানে আশেপাশের প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অশান্তি না ছড়ায়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর তাদের নিজেদের মুখ থেকে এই অপরাধের প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত ষড়যন্ত্রের কথা জানা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে এবং আইনি লড়াইয়ে সমস্ত রকম সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।