মৃতদেহ ভেসে আসছে নেপাল থেকে ভারতে, একই পরিবারের ৪০ জন সদস্য নিখোঁজ

নেপালের ভটেকোশি নদীর আকস্মিক ও বিধ্বংসী বন্যায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ মানবতাকে হতবাক করে দিয়েছে। হাজার হাজার নেপালি নিখোঁজ হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ মোট ৬২৬ জন মারা গেছেন। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশের শত শত নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে নানা আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। এদিকে, নেপালের এই ধ্বংসযজ্ঞের রেশ ভারতেও অনুভূত হচ্ছে। উত্তর প্রদেশের কুশীনগর জেলার গণ্ডক নদীতে ভাসমান তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, মৃতদেহগুলো নেপালের বন্যায় ভেসে এসেছিল। 

শনিবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ৩ নম্বর ব্যারেজ পিয়ার থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। মৃতদেহগুলো কুশীনগরের খড্ডা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। খড্ডা থানার এসএইচও সন্দীপ সিং জানান, একটি পর্যবেক্ষণকারী দল মৃতদেহগুলো ভাসতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো তুলে আনে। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, শনাক্তকরণে সহায়তার জন্য নেপালের পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোকে মৃতদেহগুলোর বিষয়ে জানানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শনাক্তকরণ করা হয়নি। এছাড়াও, মৃতদেহগুলোর পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার, যানবাহন, অন্যান্য গৃহস্থালীর জিনিসপত্র এবং ধ্বংসাবশেষও গণ্ডক নদীর স্রোতে ভেসে ভারতে চলে এসেছে।

নেপালে একটি পরিবারের ৪০ জন সদস্য বন্যায় নিখোঁজ হয়েছেন। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিবারটির এক সদস্য বলেন, “আমাদের পরিবারের চল্লিশ জন সদস্য নিখোঁজ। আমি একা। আমি কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। আমাদের ঈশ্বরের ওপরই ভরসা করতে হবে। এটা একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর আমরা কী-ই বা বলতে পারি? আমরা খুব চিন্তিত, কিন্তু কী-ই বা করার আছে?” 

তিনি বলেন, “আমাদের পরিবার ধুঙ্গে বাজার এলাকায় থাকে, যা বন্যায় পুরোপুরি ভেসে গেছে। আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না। নেপালে এ পর্যন্ত মোট ৬২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও আরও ২,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।”