২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্রাজিলের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে নরওয়ে । এই পরাজয়ের পরপরই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি নেইমার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়েই ব্রাজিলিয়ান এই ফুটবলারের এক গৌরবময় যুগের অবসান ঘটল। ম্যাচ শেষে নেইমার আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমি আমার সেরাটা দিয়েছি, আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। আমার যাত্রা যেখানে শুরু হয়েছিল, সেখানেই শেষ।”

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড় নেইমার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোটের সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন, যা তার কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে। দেশটি এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং একটি নতুন প্রজন্ম দায়িত্ব নিচ্ছে। অধিনায়ক মার্কুইনহোস বলেছেন, “আমরা চাই মানুষ এই নতুন প্রজন্মের প্রতি ধৈর্যশীল হোক এবং শুরু থেকেই তাদের সমর্থন করুক।”
Maybe in another life Neymar 💔🇧🇷 pic.twitter.com/dWfsMIcws5
— 🕊️ (@neycentral) July 5, 2026
৩৪ বছর বয়সী নেইমার ২০১০ সালের ১০ই আগস্ট উত্তর নিউ জার্সির মেডোল্যান্ডস স্টেডিয়ামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে তার প্রথম ম্যাচ খেলেন। নরওয়ের বিপক্ষে, তিনি বেঞ্চ থেকে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের শেষদিকে একটি পেনাল্টি কিক থেকে গোল করেন।
ডান পায়ের কাফ মাসলে দীর্ঘস্থায়ী চোটের কারণে নেইমার টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে খেলতে পেরেছিলেন। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তিনি ১৫ মিনিট মাঠে নেমেছিলেন।

৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ১৩০ ম্যাচে ৮০টি গোল ও ৫৮টি অ্যাসিস্ট করে ব্রাজিল পুরুষ জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার কেরিয়ার শেষ করেন।
তিনি দুটি অলিম্পিক টুর্নামেন্টেও অংশগ্রহণ করেন, ২০১২ সালে রৌপ্য পদক জেতেন এবং ২০১৬ সালে ব্রাজিলকে স্বর্ণ পদক এনে দেন। যদিও তার ক্লাব কেরিয়ার ট্রফিতে পরিপূর্ণ ছিল, ব্রাজিলের হয়ে তার একমাত্র বড় সিনিয়র জয় ছিল ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপ।








