পশ্চিমবঙ্গের আবাসন শিল্প বর্তমানে এক নতুন দিগন্তের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। রাজ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে বাংলার রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রকে আরও গতিশীল করার পক্ষে সওয়াল করল ক্রেডাই। সম্প্রতি এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, রাজ্যের আবাসন পরিকাঠামোয় বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নীতিতে আমূল সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।
ক্রেডাইয়ের দাবি, সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। শহরতলি এবং মফস্বল এলাকায় যেভাবে নগরায়ণ ঘটছে, তাতে আবাসন শিল্পের প্রসার অনিবার্য। তবে জমির দাম, নির্মাণ সামগ্রীর ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জটিলতা অনেক ক্ষেত্রেই নতুন প্রকল্পের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই বাধাগুলি দূর করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বর্তমান নীতিমালায় আরও নমনীয়তা এবং সুনির্দিষ্ট সংস্কারের আবেদন জানানো হয়েছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মেলবন্ধন ঘটলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বাড়ি তৈরির স্বপ্ন বাস্তব করা সহজ হবে।
বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন সরকার পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ নজর দিচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার পর রাজ্যে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার প্রভাব শিল্প ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান। রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপি শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসও আবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের নিজস্ব অবস্থান বজায় রেখেছে। ক্রেডাইয়ের এই দাবিকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। আবাসন শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির দিকটিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন খাতে সরকারি কর এবং স্ট্যাম্প ডিউটির কাঠামোয় পুনর্বিন্যাস করলে তা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে। ডেভেলপারদের জন্যও একক জানালা বা সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন, যাতে প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ করা সম্ভব হয়। ক্রেডাইয়ের এই প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে আবাসন শিল্প মহল। সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে রাজ্যের রিয়েল এস্টেট বাজারে যে ক্রেতা-বিক্রেতার সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তাতে সাশ্রয়ী গৃহনির্মাণ প্রকল্পগুলোই ভবিষ্যতে মূল চালিকাশক্তি হতে চলেছে। সরকারি ভর্তুকি বা সহজ ঋণের সুবিধার বিষয়টি আরও সহজতর করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং উপভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। উন্নয়নের এই যাত্রাপথে সরকারি সহযোগিতা থাকলে পশ্চিমবঙ্গ শীঘ্রই আবাসন শিল্পের মানচিত্রে এক শক্তিশালী কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে মত প্রকাশ করেছেন শিল্পপতিরা।
বিস্তারিত তথ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, এই দাবির প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী বা আধিকারিকদের এ বিষয়ে নির্দিষ্ট মতামত বা ভবিষ্যৎ রূপরেখা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যাদি আপাতত আমাদের কাছে উপলব্ধ নেই। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয় কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের কৌতূহল রয়েছে।








