পুজো টিকিটের টাকা নয়ছয়: প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডি

কলকাতা: দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে টিকিট বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগ এবার রাজ্য রাজনীতির অন্দরে তোলপাড় সৃষ্টি করল। এই দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে আজ, মঙ্গলবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাসভবন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বাড়িতে হানা দিল। সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের এই অভিযানে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, পুজোর পাস এবং টিকিট বিক্রির বিপুল পরিমাণ অর্থের হদিশ না মেলায় এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপের পাস বিক্রির নামে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছিল। বিশেষ করে প্রভাবশালী মহলের মদতে এই টিকিট কালোবাজারি চলছিল বলে অভিযোগ। ইডি সূত্রে খবর, দীর্ঘ তদন্তের পর তারা এই দুর্নীতির মূল জাল খুঁজে পেতে সমর্থ হয়েছে। আজ সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে ইডির একাধিক দল উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বেশ কিছু জায়গায় পৌঁছে যায়। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডির হানা নিঃসন্দেহে রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতিফলন হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে বিজেপি শাসিত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যে দুর্নীতিমুক্ত শাসনের ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় এই ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ একাধিকবার উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডির এই তল্লাশি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, রাজ্যের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কাজ করছে এবং তাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধেই বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।

ইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, এই টিকিট বিক্রির টাকা শুধুমাত্র পুজোর উদ্যোক্তাদের কাছে নয়, বরং প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক নেতার কাছেও পৌঁছাত। সেই নেটওয়ার্ক ভাঙতেই এই তল্লাশি অভিযান। ইন্দ্রনীল সেনের বাসভবনের পাশাপাশি তাঁর আত্মীয়দের বাড়িতেও নথি যাচাই করা হচ্ছে। বাড়ি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। তবে ঠিক কত টাকার দুর্নীতি হয়েছে, সেই বিষয়ে ইডির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সমস্ত নথি খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শীঘ্রই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, পুজোর ঠিক মুখে রাজ্যের বিরোধী নেতাদের সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আইন আইনের পথে চলছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে, ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ির সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রচুর মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে সিআরপিএফ জওয়ানরা মোতায়েন রয়েছে। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজোর প্রাক্কালে এই দুর্নীতি মামলার তদন্ত রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। ঘটনার পরবর্তী আপডেট পাওয়ার জন্য ইডির পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছে সংবাদমাধ্যম। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কি প্রাক্তন মন্ত্রীকে তলব করা হবে, তা নিয়ে এখন জল্পনা তুঙ্গে। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ বা অন্য কোনো তথ্য, যেমন এই তল্লাশিতে ঠিক কতজন আধিকারিক যুক্ত ছিলেন বা কোন কোন নথি বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তার সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে উপলব্ধ নয়।