শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ বিএলও কর্মীর, দায়ের এফআইআর

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফের একবার নারী নিরাপত্তা এবং সরকারি কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার অভিযোগ কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। গত ২৪ শে ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া এক অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন একজন নারী বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। তার লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আসা একদল বিজেপি সমর্থক তার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। অভিযোগকারীর দাবি, ঘটনার দিন বিএলও হিসেবে কর্মরত শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবিদাওয়া নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ করছিলেন। সেই সময় আচমকাই বিজেপি সমর্থকদের একটি বিশাল মিছিল সেখানে উপস্থিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, মিছিলটি যখন বিক্ষোভস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন একদল কর্মী উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ওই মহিলা কর্মী অভিযোগ করেছেন যে, ভিড়ের মধ্যে থাকা বেশ কিছু ব্যক্তি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন এবং তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরিস্থিতি কেবল মৌখিক লাঞ্ছনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি শারীরিক আঘাতও পান। এই ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে রক্ষার চেষ্টা করলেও উন্মত্ত সমর্থকদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। অভিযোগকারী মহিলার স্পষ্ট বক্তব্য, এই পুরো ঘটনাটি ঘটেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এবং তার নেতৃত্বেই সমর্থকরা এই ধরনের চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কর্মীদের কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারী কর্মী স্থানীয় থানায় বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং ওই দিনের সিসিটিভি ফুটেজ বা উপস্থিত জনসাধারণের মোবাইল ক্যামেরায় ধরা পড়া ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, একজন মহিলার ওপর এই ধরনের হামলা বিজেপির আসল চরিত্রকে সামনে এনে দিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই সাজানো অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে একজন কর্তব্যরত বিএলও কর্মীর ওপর এমন হামলা প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। শিক্ষকরা দাবি করেছেন যে, যদি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হয় তবে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। প্রশাসনিক স্তরেও এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ বিএলওরা সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকেন। তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া মানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আঘাত আসা। বর্তমানে পুলিশি তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে সব পক্ষ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করার খবর পাওয়া যায়নি, তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।