Noapara: খেলার মাঠ থেকে অলিম্পিকের স্বপ্ন: ইনডোর স্পোর্টস একাডেমির নতুন দিগন্তে নোয়াপাড়া জ্যোতি সংঘ

বিশেষ প্রতিবেদন: উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগর ও নোয়াপাড়ার ফুটবল ঐতিহ্য বহু পুরনো। একসময় কলকাতা ময়দানের নামজাদা কিংবদন্তি ফুটবলারদের পায়ের চাপে মুখরিত হতো স্থানীয় যুগের প্রতীক, সবুজ সংঘ, তরুণ সংঘ কিংবা নোয়াপাড়া জ্যোতি সংঘের মাঠগুলো। সেই ঐতিহ্যবাহী নোয়াপাড়া জ্যোতি সংঘ এবার তাদের ক্রীড়া ভাবনায় আনলো এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। কেবল আউটডোর ফুটবলেই সীমাবদ্ধ না থেকে, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এবং আধুনিক ক্রীড়া মানচিত্রের চাহিদাকে পাখির চোখ করে তারা সূচনা করল এক আন্তর্জাতিক মানের ‘ইনডোর স্পোর্টস একাডেমি’

সম্প্রতি ক্লাবের নিজস্ব প্রাঙ্গণে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও মহাসাড়ম্বরে উদ্বোধন হলো এই একাডেমির নতুন তিনটি বিভাগ—টেবিল টেনিস, দাবা এবং তীরন্দাজি (আর্চারি)। বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হওয়া এই উদয়ী উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উপচে পড়া উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

তারার হাটে বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া ও প্রশাসনিক জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। ক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সভাপতি: গৌতম বোস, কার্যকরী সভাপতি- কিশোরী মোহন চক্রবর্তী,আশীষ গাঙ্গুলি (সম্পাদক), সহ-সম্পাদক- পিন্টু ঘোষ,ইনডোর সম্পাদক- অভিরুপ গাঙ্গুলি, আউটডোর ও স্পোর্টস সেক্রেটারি- সৌভিক ঘোষ,কালচারাল সেক্রেটারি: সৌমেন ঘটক এবং ফুটবল সেক্রেটারি- শম্ভু চক্রবর্তী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মঞ্চ অলংকৃত করেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি নবাব ভট্টাচার্য এবং প্রখ্যাত টেবিল টেনিস খেলোয়াড় ও অভিজ্ঞ কোচ স্বপন বসু সহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্যান্য আধিকারিকবৃন্দ। অতিথিদের উষ্ণ সংবর্ধনা জানানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি বিভাগের সূচনা করা হয়।

গুণীজনদের বার্তা ও আগামী দিনের প্রত্যাশা

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে টেবিল টেনিস ব্যক্তিত্ব ও কোচ স্বপন বসু জ্যোতি সংঘের এই সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন:

“এত সুন্দরভাবে একটা টেবিল টেনিস একাডেমি তৈরি করে অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিল নোয়াপাড়া জ্যোতি সংঘ। আমি সকল ক্লাব কর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। টেবিল টেনিস, দাবা এবং আর্চারি—তিনটি খেলাই অলিম্পিক ইভেন্ট। এই খেলাগুলি অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ হলেও, আগামী দিনের উদীয়মান খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের জন্য এদের সম্ভাবনা অপার। জ্যোতি সংঘের এই যাত্রায় আমি সর্বদা তাদের পাশে থাকব।”

অন্যদিকে, সামাজিক সুস্থতা ও ক্রীড়াচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি নবাব ভট্টাচার্য বলেন, “যত বেশি মাঠ ও অনুশীলনের জায়গা তৈরি হবে, তত বেশি নতুন খেলোয়াড় উঠে আসবে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা যত বেশি খেলার জগতে যুক্ত হবে, সমাজ তত দ্রুত পজিটিভ পরিবর্তনের দিকে এগোবে এবং সামাজিক সুস্থতা বজায় থাকবে।”

ঐতিহ্যবাহী ফুটবল মাঠ থেকে শুরু করে ইনডোর ইভেন্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলিট তৈরির এই সাহসী পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে শ্যামনগর-নোয়াপাড়া অঞ্চলের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।