রাঁচির ছাত্র বিক্ষোভের কাছে হেমন্ত সরকারের নতি স্বীকার, ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল করতে সম্মত

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে জেপিএসসি এবং জেএসএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রার্থীদের জন্য এক বড় সাফল্য এনে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত প্রতিবাদ ও সহিংস বিক্ষোভের কাছে হেমন্ত সোরেন সরকার অবশেষে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। ক্যাবিনেট মন্ত্রী দীপিকা পান্ডে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই দফা দীর্ঘ বৈঠকের পর, সরকার প্রার্থীদের প্রধান দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। এই আলোচনার পর, রাজ্য সরকার ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল করতে সম্মতি দিয়েছে, যা প্রার্থীদের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

টিডিপিএল পরীক্ষা ও জেএসএসসি-সিজিএল মামলায় সিআইডির তদন্ত

ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর মন্ত্রী দীপিকা পান্ডে সিং এই সিদ্ধান্তগুলি ঘোষণা করেন এবং জানান যে শিক্ষার্থীদের সমস্ত ন্যায্য উদ্বেগের সমাধান করাই সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্য সরকার এখন বিতর্কিত সংস্থা টিডিপিএল দ্বারা পরিচালিত জেএসএসসি-সিজিএল সহ সমস্ত পরীক্ষার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সিআইডিকে দিয়ে করাবে। যদি আর্থিক অনিয়ম বা গুরুতর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি-কে চিঠি দিতে দ্বিধা করবে না।

৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা হবে এবং একটি বিচার বিভাগীয় কমিটি তা পর্যবেক্ষণ করবে

জেএসএসসি-সিজিএল-এর ফলাফল ও নিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান যে, যেহেতু বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার সাথে সম্পর্কিত এবং প্রার্থীরা কর্মরত আছেন, তাই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে মামলাটি একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে পাঠানো, যাতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা যায় এবং নির্দোষ প্রার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি

মন্ত্রী দীপিকা পান্ডে বলেছেন যে একটি স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা কেবল রাজ্যের জন্যই নয়, সমগ্র দেশের জন্যই প্রয়োজন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ঝাড়খণ্ড সরকার ২০২৩ সালে বিধানসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী একটি কঠোর আইন পাস করেছে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট: যুবকদের ভবিষ্যৎ বিপন্নকারী কোনো সিন্ডিকেটকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং পরীক্ষায় কারচুপি রোধ করতে প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।