ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে, ছাড় বাড়িয়েছে আমেরিকা

হরমুজ সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার ছাড়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেস্যান্ট এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়াবে না বলার মাত্র দুই দিন পরেই ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত এলো। যুক্তরাষ্ট্র এই ছাড়ের মেয়াদ আরও প্রায় এক মাসের জন্য বাড়িয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ শুক্রবার গভীর রাতে একটি লাইসেন্স জারি করেছে, যা রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজগুলোকে ১৬ই মে পর্যন্ত যাতায়াতের অনুমতি দেয়। ট্রাম্পের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট প্রকাশ্যে এই ধরনের ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে ইঙ্গিত দেওয়ার মাত্র দুই দিন পরেই এই পদক্ষেপটি নেওয়া হলো।

এই নতুন অনুমতি পূর্ববর্তী ৩০-দিনের ছাড়ের পর কার্যকর হবে, যার মেয়াদ ১১ই এপ্রিল শেষ হয়েছে। যদিও এটি নির্দিষ্ট শর্তে ক্রয় অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয়, তবে এটি ইরান, কিউবা এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে লেনদেনকে স্পষ্টভাবে বাদ দেয়। এর অর্থ হলো, এই ছাড়ের অধীনে কোনো দেশই ইরান , কিউবা এবং উত্তর কোরিয়া থেকে তেল কিনতে পারবে না।

“আমরা রাশিয়া ও ইরানের তেলের জন্য সাধারণ লাইসেন্স নবায়ন করব না। এই তেল ১১ই মার্চের আগেই জাহাজে বোঝাই করা হয়েছিল, তাই এর সম্পূর্ণ ব্যবহার হয়ে গেছে,” একটি সংবাদ সম্মেলনে বেসান্ত একথা বলেন। তিনি গত মাসে বলেছিলেন যে, ২০শে মার্চ মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক জারি করা ইরানি ছাড়ের ফলে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ব বাজারে পৌঁছাতে পেরেছিল এবং যুদ্ধের সময় জ্বালানি সরবরাহের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করেছিল। তবে, মার্কিন আইনপ্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে যুক্তি দেন যে, নিষেধাজ্ঞার এই ছাড় ইরানের অর্থনীতিকে সাহায্য করবে, যখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। একইভাবে, রাশিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও তা দেশটির অর্থনীতিকে সাহায্য করবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেছেন যে, প্রথম ছাড়ের ফলে ১০ কোটি ব্যারেল রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল সহজলভ্য হবে, যা বিশ্বের প্রায় একদিনের উৎপাদনের সমান। যদিও এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ সাময়িকভাবে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ বাড়াতে পারে, তবে ইরানের হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কারণে পেট্রোলিয়ামের দামে তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছে। যুদ্ধের আগে, বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করত।