কলকাতা: রাজ্যের রাজনীতিতে ফের অস্বস্তি বাড়ল শাসক শিবিরের জন্য। আজ বুধবার ফের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হলো প্রখ্যাত গায়ক তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইন্দ্রনীল সেনকে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হলো। জানা গিয়েছে, রাজ্যের নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সকাল দশটা নাগাদ ইন্দ্রনীল সেনকে সিজিও কমপ্লেক্সে প্রবেশের সময় বেশ বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। গত কয়েক মাস ধরেই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা তুঙ্গে। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে মরিয়া। এরই মধ্যে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, আগের দফার জিজ্ঞাসাবাদের পর বেশ কিছু অমিল পাওয়া গিয়েছিল, যার উত্তরের খোঁজে আজ ফের তলব করা হয়। যদিও ইন্দ্রনীল সেনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
এদিন সিজিও কমপ্লেক্স চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের তদন্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস এই তদন্তের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে বারবার সরব হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অতীতে একাধিকবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। আজকের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের নতুন করে তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মূলত কিছু আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সিবিআই এবং ইডি যে সমান্তরাল পথে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ওয়াকিবহাল মহল। ইন্দ্রনীল সেনের কাছ থেকে পাওয়া বয়ান ভিডিও রেকর্ড করা হচ্ছে বলেও ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে প্রথমবার তাঁকে তলব করার পর থেকেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। আজ পুনরায় তলবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে, ইডি ঠিক কোন নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয়বার ডাকল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফ থেকে এখনো দেওয়া হয়নি। আমরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়টিকে সামনে রেখে রাস্তায় নামার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, শাসক দল বিজেপির দাবি, তদন্ত তার নিজস্ব গতিতেই চলছে এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এখনও অনেক তথ্যই স্পষ্ট নয়। ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে বা অফিসে কোনো তল্লাশি চালানো হয়েছে কি না, অথবা আগামী দিনে তাঁকে ফের ডাকা হবে কি না, সেই সংক্রান্ত বিশদ তথ্য এখনও আমাদের কাছে উপলব্ধ নেই। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আগামী দিনে তদন্তের মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলার মানুষ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই তদন্ত রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।








