Trevor Hooton: “কাডল থেরাপি” র মাধ্যমে মাত্র ১ ঘণ্টা জড়িয়ে ধরে ৭ হাজার টাকা রোজগারের সুযোগ !

প্রতীকী ছবি।

 

খবর এইসময় ডেস্ক – আপনি অবশ্যই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা সায়েন্টিস্ট কিংবা শিল্পপতি বা উদ্যোগপতিদের সাথে দেখা করেছেন হয়ত !  কিন্তু, আপনি কি কখনও একজন ‘পেশাদার আলিঙ্গনকারী’ র কথা শুনেছেন ? খুব সম্ভাবত  না, তাই না?

আসলে, আলিঙ্গন যাকে চলতি কথায় আমরা বলি জড়িয়ে ধরা বা জাপটে ধরা বা গলায় গলায়। কখনো মজার ছলে আমরা বলি, আয় ভাই বুকে আয়। তো মজা হোক বা আনন্দ বা উৎসব কিংবা বেদনা, যখনই  দু- জন মানুষ একে অপরের জন্য কাঁধ ও বুক পেতে দেয় সেটাই হয়ে ওঠে আলিঙ্গন। কারণ, একটু স্পর্শ, ছোঁয়া, আলিঙ্গনে বুকের অনেক ভার কমিয়ে দেয়। সেই জন্যেই আলিঙ্গনের গুরুত্ব অনেক। যদিও  এই দেশে অনেকে আবার ভ্যালেন্টাইন্স উইকে ‘হাগ- ডে ’ ও সেলিব্রেট করে। কিন্তু আজ আমরা আপনাকে এমন একজনের নাম বলব যিনি পেশাদার আলিঙ্গনকারী এবং তার ক্লায়েন্টরা ৭ হাজার টাকা দিয়ে এক ঘন্টা ধরে আলিঙ্গন করার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন যা মানুষকে নিরাপদ এবং শান্ত বোধ করতে সহায়তা করে।

মিরর রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে বয়স ৩০ এর যুবক ট্রেভর হুটন, একজন পেশাদার আলিঙ্গনকারী। কয়েক মাস আগে তিনি তার ব্যবসা আলিঙ্গন সংযোগের মাধ্যমে “কাডল থেরাপি” অফার করেন যা আজ বেশ প্রতিষ্ঠিত।যিনি ঘন্টাব্যাপী আলিঙ্গনের জন্য ৭ হাজার টাকা চার্জ করেন।

তার কাজ কিন্তু এমন কিছু নয়, যা আমরা প্রতিদিন দেখতে পাই, এটি আরও ঘনিষ্ঠ এবং “স্পর্শের মাধ্যমে কারো প্রতি যত্ন, স্নেহ এবং শুভেচ্ছা ঢেলে দেওয়া” যা আজকাল অত্যন্ত প্রয়োজন।

যাইহোক, হুটন বলেছেন, যে তার এই কাজ নিয়ে নাকি অনেকেই ভুল বোঝেন, এমনকি কেউ কেউ এটিকে যৌন কাজের জন্যও ভুল করেন।

 এই ব্যাপারে হুটন বলেন “আমি মানুষের সংযোগ তৈরির জন্য আমার আবেগের উপর ভিত্তি করে একটি ব্যবসা তৈরি করেছি। অনেক মানুষ সেগুলি তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করে এবং সেখানেই আমি পা রাখি। এটি কেবল আলিঙ্গন করার চেয়েও বেশি কিছু নয়, এটি লোকেদের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি দেয়, তা যাই হোক না কেন। আলিঙ্গন থেরাপিস্টদের সাথে, আপনি তাদের সময়, মনোযোগ এবং যত্ন নিচ্ছেন। এটি একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে আলিঙ্গন করার চেয়েও বেশি কিছু এমনটাই হুটন বলেন।

তিনি আরও বলেন যে,”কিছু লোক প্রথমে এটিকে কিছুটা বিশ্রী বলে মনে করে, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, এবং তারা দ্রুত স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। লোকেদের নিজেদেরকে জিজ্ঞাসা করা উচিত ‘যদি আপনার কাছে যত্ন, সমর্থন এবং ভালবাসা বোধ করা ছাড়া আর কিছু করার জন্য এক ঘন্টা সময় থাকতে পারে তবে এটি কীভাবে করবে? তুমি অনুভব কর?”

তবে,ছোট বেলায় মা যখন বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করে, মনে হয় ঘুম বুঝি ঝুপ করে নেমে আসবে। আবার বড় হলে স্বামী বা স্ত্রী যখন একে অপরকে আলিঙ্গন করে তখন মনে হয় এটাই পরম শান্তি স্থান। কিন্তু, মানুষ আজকাল ব্যস্ত। মায়েরা কাজে ব্যস্ত, স্বামী- স্ত্রীরা কাজে ব্যস্ত, কোথায় আলিঙ্গন? সেই পুরোনো প্রেম আলিঙ্গন যেন তলানিতে ঠেকেছে। ফলে সেই দিন আর বেশি দূরে নেই,আগামী দিনে হয়ত আমাদের দেশেও ট্রেভর হুটনের মত “কাডল থেরাপি”র ঝাঁপি খুলে যাবে কোন এক কংক্রিটের শহরে।