কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) একটি গোপন প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গোল্ডি ব্রার স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবহার করে কানাডায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কার্যক্রম গড়ে তুলেছিলেন। এই নেটওয়ার্কটি চাঁদাবাজি ও সহিংস অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দলে ভেড়াত।
‘গ্লোবাল নিউজ’-এর একটি প্রতিবেদনে সিবিএসএ-র গোপন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং তাদের অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক বিস্তারে কানাডার স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা কর্মসূচির সুযোগ নিয়েছিল। এক্ষেত্রে দেশটিতে সিন্ডিকেটের উপস্থিতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিষ্ণোইয়ের প্রধান সহযোগী গোল্ডি ব্রার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
গ্লোবাল নিউজের হাতে আসা সিবিএসএ-র ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্রার ২০১৭ সালে কানাডায় এসেছিলেন—কথিতভাবে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কামলুপসে অবস্থিত থম্পসন রিভার্স ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করার জন্য। তবে সরকারি নথিপত্রে দেখা যায়, তিনি আদৌ কোনো ক্লাসে অংশ নিয়েছিলেন কি না, তা ‘অজানা’।
এর পরিবর্তে, তদন্তকারীদের অভিযোগ—ব্রার কানাডায় গ্যাংয়ের কার্যক্রম বিস্তারে বিষ্ণোইকে সহায়তা করেছিলেন। সেখানে এই গ্যাংয়ের নাম হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড, একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে জড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিবিএসএ-র ‘ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশনস ডিরেক্টরেট’-এর তৈরি গোয়েন্দা মূল্যায়নে কানাডায় গ্যাংটির “ক্রমবর্ধমান সক্রিয় উপস্থিতি” এবং “অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে কানাডার অভিবাসন কর্মসূচি ব্যবহারের বিষয়টি” নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “তদন্তে ক্রমশই দেখা যাচ্ছে যে, স্টাডি পারমিট ও ওয়ার্ক পারমিটধারী ভারতীয় নাগরিকরা এসব সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।”
“বিষ্ণোই-সংশ্লিষ্ট চাঁদাবাজির অব্যাহত বিস্তার এবং স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক পারমিটধারীদের এতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সিবিএসএ-র কার্যক্রমের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
‘দ্য বিষ্ণোই গ্যাং: অ্যান ইমার্জিং থ্রেট ইন কানাডা’ (বিষ্ণোই গ্যাং: কানাডায় একটি উদীয়মান হুমকি) শিরোনামের নথিটি অভিবাসন কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রচার করা হয়েছিল, যাতে এই গোষ্ঠীর কার্যক্রম শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যায়। নথিটি গোপন হলেও পরবর্তীতে আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে এর একটি অনুলিপি জনসমক্ষে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কানাডায় সামগ্রিক চাঁদাবাজির হার ১০ শতাংশ কমলেও, একই সময়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।
দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ানদের লক্ষ্য করে চাঁদাবাজির কলের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকেই এই বৃদ্ধির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিবেদনটি; যেখানে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথিত সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করে আসছিল। তদন্তকারীরা এই ঘটনাগুলোর মধ্যে দুটি সাধারণ বিষয় বা ‘recurring factors’ চিহ্নিত করেছেন—‘গোল্ডি ব্রার’-এর নাম এবং এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা যারা স্টুডেন্ট বা ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কানাডায় প্রবেশ করেছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “চাঁদাবাজির অভিযোগের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভারতীয় স্টুডেন্ট পারমিট-ধারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে গুরুতর ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগের অনুরূপ একটি ধারার প্রতিফলন।”
সিবিএসএ (CBSA)-এর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতীয় স্টুডেন্ট পারমিট-ধারীদের জড়িত অপরাধের সংখ্যা ৮,৮০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; এতে ভারতকে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ‘প্রধান উৎস’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, “এটি স্বীকার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে যে, এই পরিসংখ্যানগুলো সম্ভবত সমস্যার প্রকৃত মাত্রাকে কম করে দেখায়, কারণ অনেক অপরাধই শনাক্ত বা রিপোর্ট করা হয় না।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে স্টাডি পারমিট নিয়ে কানাডায় প্রবেশ করা প্রায় ৪,০০০ ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মোট ১৭,৯২৯টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এর মধ্যে ৪,৯২০টি অভিযোগকে গুরুতর বা সংঘবদ্ধ অপরাধ-সম্পর্কিত হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল এবং এই অপরাধগুলোর ৯৭ শতাংশই ছিল সহিংস প্রকৃতির।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কানাডায় স্টাডি ভিসায় অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে ১৩,০৪০টিরও বেশি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
তবে এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ২,৪১৮ জন ব্যক্তি সেই বছর কানাডায় থাকা ১,৮৮,১২৫ জন ভারতীয় শিক্ষার্থীর মাত্র এক শতাংশেরও সামান্য বেশি—এই বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি; বরং অপরাধমূলক মামলার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে কানাডার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচির সম্ভাব্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রভাবও খতিয়ে দেখা হয়েছে; ২০২২ সালে এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
যদিও আবাসন সংকটের কারণ দেখিয়ে ফেডারেল সরকার পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শেষের দিকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার সংখ্যা সীমিত বা ‘ক্যাপ’ (cap) করে দেয়, তবুও সিবিএসএ-র প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এই কর্মসূচিটি সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর জন্য দেশটিতে তাদের কার্যক্রম বিস্তারের সুযোগও তৈরি করে দিতে পারে।
ভিসা কর্মসূচির কোনো ত্রুটি ‘বিষ্ণোই গ্যাং’-কে কানাডায় তাদের অবস্থান শক্ত করতে সহায়তা করেছে কি না—এ বিষয়ে ‘ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা’ কোনো মন্তব্য বা সাড়া দেয়নি। বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, গত দুই বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচি ৮৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে এবং বর্তমানে মোট স্টুডেন্ট ভিসার মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের হিস্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় এক-চতুর্থাংশে, যা আগে ছিল ৪১ শতাংশ। এই তথ্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অপরাধবিজ্ঞানী ও সিবিএসএ (CBSA)-এর সাবেক কর্মকর্তা অধ্যাপক কেলি সান্ডবার্গ ‘গ্লোবাল নিউজ’-কে বলেন, কানাডার বিদেশি শিক্ষার্থী কর্মসূচি—যা মূলত ‘অবারিত ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে’ পরিচালিত—তা স্পষ্টতই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অপব্যবহারের শিকার হয়েছে।
তিনি যুক্তি দেন যে, অপর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্রের সদস্যরা কানাডায় প্রবেশ করতে পারছে; পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদেরও এই চক্রের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসছে, যাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সম্ভাবনা থাকে।
তিনি বলেন, “এটি অযৌক্তিক নীতি ও আইনের এক ভয়াবহ সংমিশ্রণ, যার ফলে বিপুল সংখ্যক তরুণ বিদেশি কানাডায় আসছে কিন্তু এখানে তাদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা ব্যবস্থা নেই। এর ফলে তারা নিজ দেশের অপরাধীদের খপ্পরে পড়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।”
“এর জন্য অটোয়াই (কানাডা সরকার) শতভাগ দায়ী।”
বহিষ্কারাদেশ বিষয়ক শুনানিতে অপরাধী নেটওয়ার্কের তথ্য প্রকাশ
সাম্প্রতিক অভিবাসন বিষয়ক শুনানিতে সিবিএসএ (CBSA)-এর সেই তথ্যই আরও জোরালোভাবে উঠে এসেছে যে, বিষ্ণোই গ্যাং তাদের অপরাধী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কানাডার স্টুডেন্ট ভিসা বা শিক্ষার্থী ভিসা কর্মসূচিকে ব্যবহার করেছে।
গত ছয় মাসে, চাঁদাবাজি চক্রের বিরুদ্ধে কানাডায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ সংক্রান্ত শুনানিতে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড’-এর সামনে হাজির করা হয়েছে।
‘গ্লোবাল নিউজ’-এর তথ্যমতে, অভিযুক্তদের অনেকেই স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডায় প্রবেশ করেছিল এবং শুনানিকালে সিবিএসএ-র গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে ব্রারকে এই অপরাধী কৌশলের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্রার ২০১৭ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডায় আসেন এবং ২০১৯ সালে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে একটি শুনানিতে হাজির হতে ব্যর্থ হওয়ায় তার সেই আবেদনটি বাতিল বা পরিত্যক্ত বলে গণ্য করা হয়। এরপর থেকে ব্রারের বিরুদ্ধে ভারতে এক যুবনেতা এবং পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুস ওয়ালাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথিপত্রেও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালে ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যার মিশনে অংশ নেওয়ার জন্য ব্রার স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক পারমিটধারী ভারতীয় তরুণদের নিয়োগ দিয়েছিলেন।
কানাডার কর্তৃপক্ষ ভারতীয় কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সাথে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ এনেছে। অন্যদিকে সিবিএসএ উল্লেখ করেছে, “এই অভিযোগগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, সংগঠিত অপরাধী চক্র এবং রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্টতার সাথে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র থাকতে পারে, যারা সমান্তরাল লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজ্জারকে হত্যার পর গ্যাংটি তাদের চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করে। তারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে হুমকি, গুলি চালানো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করে।
ক্রিমিনোলজি বা অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক ওয়েড ডেইসম্যান ‘গ্লোবাল নিউজ’-কে বলেন, এই কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য কেবল আর্থিক লাভ নয়; বরং গ্যাংটি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল যেখানে সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি বা জনগোষ্ঠী “এক ধরণের ‘কর বা চাঁদা প্রদানের ব্যবস্থা’ মেনে নিতে বাধ্য হবে।”
ডেইসম্যান আরও বলেন, “এটি কেবল চাঁদাবাজি সংক্রান্ত সংকট নয়, এটি জননিরাপত্তা বিষয়ক একটি সংকট।” সিবিএসএ (CBSA) আরও জানিয়েছে যে, বিষ্ণোই কারাগার থেকেই ব্রারের মতো সহযোগীদের মাধ্যমে তার গ্যাং বা অপরাধী চক্রটি পরিচালনা করে চলেছে; অভিযোগ রয়েছে যে, এই সহযোগীরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “প্রমাণাদি ইঙ্গিত দেয় যে, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রধান কার্যক্রমগুলো কারাগারের ভেতর থেকেই বিষ্ণোই নিজে পরিচালনা করছেন।”
উদাহরণস্বরূপ, প্রতিবেদনে অভিজিৎ কিংরার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডায় প্রবেশের পর এই গ্যাংয়ে যোগ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিংরা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, ভারতে থাকা নিজের পরিবারের ভরণপোষণের প্রয়োজনে তিনি গুলি চালানোর একটি কাজের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, “আমি ভেবেছিলাম এর মাধ্যমে দেশে থাকা আমার পরিবারকে সাহায্য করতে পারব, কারণ এখানে আমার চাকরিটা ভালো যাচ্ছিল না।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে পাঞ্জাবি গায়ক এপি ধিলনের বাসভবনে হামলার ঘটনায় পরবর্তীতে কিংরা দোষী সাব্যস্ত হন।
এতে আরও বলা হয়, “বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নির্দেশে ধিলনকে ‘ভীতসন্ত্রস্ত’ করার জন্য কিংরাকে ভাড়া করা হয়েছিল; এটি কানাডায় সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্যাংটির দ্বারা স্টুডেন্ট পারমিট (SP) বা শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের ব্যবহারের বিষয়টিকেই তুলে ধরে।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চাঁদাবাজির ঘটনায় ব্রারের নাম ক্রমশ উঠে আসছে এবং গ্যাংগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুর পরিধি পাঞ্জাবি শিখ সম্প্রদায়ের বাইরে অন্যান্য ইন্দো-কানাডিয়ান সম্প্রদায়ের দিকেও প্রসারিত করছে।
এতে বলা হয়, “এটি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে কানাডাজুড়ে দেখা পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং বিষ্ণোই গ্যাং-সংশ্লিষ্ট চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের সেই মূল কর্মপদ্ধতির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—যেখানে মূলত খালিস্তান-পন্থী আন্দোলনের কথিত সদস্য বা ভারত সরকারের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হতো।”
‘শিখ ফেডারেশন অফ কানাডা’-র নেতা মনিন্দর সিং ভারতীয় কর্মকর্তাদের কথিত ভূমিকা নিয়ে আরও স্বচ্ছতার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “মূল বিষয়টি কেবল এটি নয় যে কানাডায় বিষ্ণোই গোষ্ঠী কীভাবে কার্যক্রম চালায়, বরং বিষয়টি হলো—ভারতীয় গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা কীভাবে সেই অপরাধী নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে কানাডায় বসবাসরত শিখদের ওপর নজরদারি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও হামলা চালিয়েছেন।”
তথ্যসুত্র -বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা ।







