সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যু মামলায় বড় সিদ্ধান্ত, তদন্ত করবে সিবিআই

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যু মামলায় একটি বড় সিদ্ধান্ত এসেছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে বোম্বে হাইকোর্ট এটি সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি, হাইকোর্ট পুলিশকে এই পুরো বিষয়ে অবিলম্বে একটি এফআইআর দায়ের করে নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। ২০২০ সালের ৮ জুন দিশা সালিয়ানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এর কিছুদিন পরেই মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতকেও তাঁর ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পূর্ববর্তী শুনানিতে সব পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত তার সিদ্ধান্ত সংরক্ষিত রেখেছিল, যা আজ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। দিশা সালিয়ানের বাবা সতীশ সালিয়ানের দায়ের করা একটি আবেদনের জের ধরে এই পুরো আইনি ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। বোম্বে হাইকোর্টে করা তার আবেদনে সতীশ সালিয়ান পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে তার মেয়ে দিশার মৃত্যু কেবল দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা ছিল না, বরং তাকে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে।

এর ভিত্তিতে দিশার বাবা ফৌজদারি ধারায় এফআইআর দায়ের এবং সম্পূর্ণ সত্য উদঘাটনের জন্য সিবিআই-এর মতো কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।

বিচারপতি সারং কোটওয়াল এবং রঞ্জিত রাজা ভোসালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জানিয়েছে যে, সিবিআইকে অবশ্যই একটি এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং মৃতের বাবা সতীশ সালিয়ানের জবানবন্দি রেকর্ড করতে হবে। তবে, তদন্তকালে কারও বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তাকে অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে না। আদালত মুম্বাই পুলিশকে এই মামলার সাথে সম্পর্কিত সমস্ত নথি ও রেকর্ড অবিলম্বে সিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশও দিয়েছে। বেঞ্চ বলেছে, “যদি তদন্তে দেখা যায় যে কোনো মামলা প্রমাণিত হয়নি, তাহলে সিবিআই সংশ্লিষ্ট আদালতে একটি উপযুক্ত সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।”

দিশা সালিয়ান একজন সেলিব্রিটি ম্যানেজার ছিলেন এবং প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য কাজ করেছিলেন। ২০২০ সালের ৮ই জুন রাতে মুম্বাইয়ের মালাড এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে দিশার মৃত্যু হয়। সে সময় পুলিশ মামলাটিকে একটি আকস্মিক মৃত্যু প্রতিবেদন (ADR) হিসেবে নথিভুক্ত করে এবং পরবর্তী তদন্তে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি।

দিশার মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ পর, ২০২০ সালের ১৪ই জুন সুশান্ত সিং রাজপুতও মারা যান, যার ফলে দুটি ঘটনা নিয়েই নানা দাবি ও জল্পনা তৈরি হয়। তবে, তদন্তকারী সংস্থাগুলো এই দুটি মৃত্যুর মধ্যে কোনো অপরাধমূলক যোগসূত্র নিশ্চিত করেনি। এখন, দিশার বাবা সতীশ সালিয়ানের দায়ের করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই মামলার পরিস্থিতি নতুন করে তদন্ত করার জন্য একজন সিবিআই কর্মকর্তা নিয়োগ এবং একটি এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে।