তৃণমূলের মর্যাদা রক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তোপ মমতার

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক দলের মর্যাদা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় স্তরে এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে আজ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন যেভাবে একটি রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক মর্যাদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেরি করছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মর্যাদার বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তার আওতায় তৃণমূল কংগ্রেসও রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই গোটা বিষয়টি নিয়ে অহেতুক দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হচ্ছে, যা তৃণমূল কংগ্রেসের মতো একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলার চেষ্টা হিসেবেই দেখছে ঘাসফুল শিবির। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অন্যদিকে, এই আইনি লড়াইয়ের বিষয়টি নিয়ে দলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড যদি দলীয় স্বার্থের পরিপন্থী হয় এবং তারা যদি দ্রুত কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে না পৌঁছায়, তবে তৃণমূল কংগ্রেস শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। আইনি লড়াইয়ের পথে যে তৃণমূল পিছিয়ে থাকবে না, তা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবেও সুপরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। সংবিধান ও আইন মেনে চললে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক মর্যাদা নিয়ে কোনো সংশয় থাকার কথা নয়। তা সত্ত্বেও যদি নির্বাচন কমিশন বিলম্বিত নীতি গ্রহণ করে, তবে সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং সংশ্লিষ্ট আইনি ধারায় শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হতে পারে। এ বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়া শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

তৃণমূলের দলীয় নেতৃত্বের মতে, এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা যেভাবে বেড়েছে, তাতে বিরোধী শিবির অস্বস্তিতে পড়েছে বলেই এই জাতীয় কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। তবে নির্বাচন কমিশন বা কোনো কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপে দল যে নতিস্বীকার করবে না, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

এই পুরো পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নির্বাচন কমিশন যদি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিষয়টি সুরাহা না করে, তবে আগামী দিনে এটি একটি বড় আইনি ও রাজনৈতিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রণকৌশল তৈরি হচ্ছে। দলের আইনি সেলের সাথে এ বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন শীর্ষ নেতারা।

দলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা নেই। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে দাবি তোলা হয়েছে, তা কমিশন কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

পরিশেষে, দল ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন, তাতে তৃণমূল কর্মীরা উজ্জীবিত। বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই দাবিকে আইনি জটিলতা থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল হিসেবেই ব্যাখ্যা করছে। সামগ্রিক এই পরিস্থিতি এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা আদালতমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি, তবে খুব শীঘ্রই আইনি নোটিশ পাঠানোর চিন্তাভাবনা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারি বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।