রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন সরগরম। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন। তিনি দাবি করেছেন যে, রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এখন আর কেবল আবেগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন, বরং বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে আস্থা রাখতে শুরু করেছেন। কলকাতার প্রশাসনিক মহলে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিজেপি পরিচালিত বর্তমান রাজ্য সরকার রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে এবং সেই কর্মযজ্ঞের সুফল আজ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, সেই উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বর্তমান সরকার। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিশেষ দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে উন্নয়নের নিরিখে কাউকে পৃথক চোখে দেখছে না। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’। এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখেই আমরা প্রতিটি প্রান্তে বিদ্যুৎ, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং উন্নত পরিকাঠামো পৌঁছে দিচ্ছি। সংখ্যালঘু সমাজের প্রতিনিধিরা এখন স্বয়ং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং সরকারের এই উন্নয়নমুখী মানসিকতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ শাসনকালে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে যে রাজনীতির খেলা চলত, তা বর্তমানে অনেকটাই স্তিমিত। রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপি মনে করছে, উন্নয়নই হলো প্রকৃত রাজনীতির চাবিকাঠি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবসমাজ এখন কর্মসংস্থান এবং উন্নত জীবনযাত্রার স্বপ্ন দেখছে, যা কেবল একটি স্থিতিশীল এবং উন্নয়নশীল সরকারের পক্ষেই সম্ভব। তিনি এদিনের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সংখ্যালঘু কল্যাণ প্রকল্পগুলি আরও দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে রূপায়িত হয়। কোনো অবস্থাতেই যাতে কোনো বেনিফিশিয়ারি বা উপভোক্তা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন কার্যত ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। একদা সংখ্যালঘু ভোটের ওপর ভিত্তি করে যারা ক্ষমতায় টিকে থাকত, সেই তৃণমূল আজ বিরোধী শিবিরে বসে দিশাহারা। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার যে উন্নয়নের নিরিখে সংখ্যালঘু মন জয়ে মরিয়া, তা মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন বার্তার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে কর্মসংস্থান তৈরির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং তাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করছেন। এটিই সরকারের সাফল্যের আসল দলিল।
পরিশেষে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দলীয় স্তরেও নির্দেশ দিয়েছেন যে, তৃণমূলের প্ররোচনায় পা না দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নের প্রকৃত খতিয়ান তুলে ধরতে হবে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, যারা অতীতে আমাদের ভুল বুঝেছিলেন, তারাও আজ বুঝতে পারছেন যে উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। রাজ্যের সার্বিক উন্নতিই আমাদের শেষ কথা এবং সেই পথেই আমরা অবিচলভাবে এগিয়ে যাব। আসন্ন দিনগুলোতে এই উন্নয়নমুখী ধারাকে আরও মজবুত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। উন্নয়নের এই জোয়ারে শামিল হয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজ যে পরিবর্তনের মূল স্রোতে ফিরে এসেছে, তা আগামী দিনের নির্বাচনেই প্রমাণিত হবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। সরকারের এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষ কতটা গ্রহণ করছেন, তার প্রতিফলন এখন প্রতিটি জনসভায় এবং স্থানীয় স্তরের সভা-সমিতিতেও স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড় পরিবর্তন হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।








