কলকাতার বুকে এক মর্মান্তিক ও রহস্যময় ঘটনার সাক্ষী রইল শহরবাসী। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর, যে কিনা জাতীয় স্তরের একজন প্রতিশ্রুতিমান শ্যুটার, বাড়ি থেকে দুধ কিনতে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যায়, যখন ওই কিশোর তার বাসস্থান থেকে সামান্য কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনার জন্য বাইরে যায়। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সম্পূর্ণ স্বাভাবিকই ছিল এবং তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা বা বিষণ্নতার ছাপ লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সে না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন এবং এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই কিশোর জাতীয় পর্যায়ের শ্যুটিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে একাধিকবার নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। খেলাধুলায় অত্যন্ত মেধাবী এবং শান্ত স্বভাবের এই কিশোরের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে যথেষ্ট ভাবিয়ে তুলেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় অবিলম্বে একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরটির খোঁজ পেতে শহরের প্রতিটি সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তার মোবাইল ফোনের শেষ লোকেশন এবং টাওয়ার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র বা ক্লু পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ তদন্তের গতি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
কিশোরটির বাবা-মা কান্নাভেজা কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, সে কেন এমন কাজ করবে বা কেন নিখোঁজ হয়ে গেল, তা তাদের কাছে সম্পূর্ণ অস্পষ্ট ও রহস্যাবৃত। কোনো মানসিক চাপ, পারিবারিক কলহ কিংবা কারো সঙ্গে শত্রুতার কথা পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়নি। তার কোচ এবং সহপাঠীদের সঙ্গেও দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। শ্যুটিং প্র্যাকটিসে যাওয়ার নিয়মিত রুটিন কিংবা সাম্প্রতিক কোনো প্রতিযোগিতার ফলাফল সংক্রান্ত কোনো নেতিবাচক বিষয় এই নিখোঁজ হওয়ার পেছনে রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশেপাশের এলাকার দোকান ও আবাসনগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার কাজ চলছে এবং সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, রেল স্টেশন ও বাস স্ট্যান্ডে কিশোরের ছবি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
ঘটনার আকস্মিকতায় কার্যত ভেঙে পড়েছে পরিবার। ক্রীড়াজগতে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এক তরুণ খেলোয়াড়ের এভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়াটা অনেকের মনেই গভীর প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ কমিশনারেট থেকে জানানো হয়েছে, কিশোরটিকে দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। শহরের গোয়েন্দা বিভাগ তথা ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের সদস্যরাও এই বিষয়টি নিয়ে গোপনে কাজ করছেন। পরিবারের সদস্যরা সংবাদমাধ্যমের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যে, কেউ যদি ওই কিশোরকে কোথাও দেখতে পান বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকে, তবে যেন দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করেন। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় পুলিশ প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সতর্কতার সঙ্গে নিচ্ছে।
বর্তমানে কিশোরটির কোনো হদিস না মেলায় এলাকাবাসীর মধ্যে এক ধরনের ভীতি ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে। তার স্কুল এবং কোচিং সেন্টারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠীরা একবাক্যে স্বীকার করছে, সে অত্যন্ত শান্ত ও মেধাবী ছাত্র ছিল এবং তার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ তাদের মাথায় আসছে না। পুলিশ এখন প্রতিটি কোণ থেকে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এবং সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফলাফল মেলেনি। তবে তদন্তকারীরা যথেষ্ট আশাবাদী যে, অচিরেই কিশোরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে, এই সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপাতত গোপন রাখা হয়েছে বলেও পুলিশের উচ্চপদস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে। শহরবাসী এখন কেবলই অপেক্ষা করছে এই প্রতিভাবান কিশোরের সুস্থ ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য।








