কালিম্পং ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত গৌরীপুর হাউসের সংস্কার কাজ চলছে

কালিম্পং শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আপার কার্ট রোডে অবস্থিত দ্বিতল ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে অবহেলিত অবস্থায় ছিল। রাজ্য পূর্ত বিভাগ, রাজ্য ঐতিহ্য কমিশন এবং রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগের উদ্যোগে গৃহীত একটি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অংশ হিসেবে বর্তমানে এটির ব্যাপক সংস্কার কাজ চলছে। এর জন্য প্রায় ২.৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

কালিম্পংয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গৌরীপুর বাড়িটি নতুনভাবে সাজানো হয়েছে

গৌরীপুর ভবনের সংস্কার কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। মেঝেতে বসছে নতুন টালি। আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুরো বাড়িটি রঙ করার কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে শিঘ্রই শীঘ্রই সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়ে বাড়িটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। গৌরীপুর হাউসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সম্পর্কিত সামগ্রী ও শিল্পকর্ম নিয়ে একটি জাদুঘর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে জেলা প্রশাসনের।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর অঞ্চলের জমিদারদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এই অট্টালিকা সদৃশ বাড়িটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৩৮ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে অন্তত তিনবার কালিম্পং গিয়েছিলেন। ১৯৩৮ সালে গৌরীপুর হাউসে তাঁর ৭৮তম জন্মদিন উদযাপন করেন। সেবার তিনি তাঁর ‘জন্মদিন’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন। তখন এই আবৃত্তিটি কলকাতার অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল।

দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হলে গৌরীপুর হাউস কালিম্পংয়ের পর্যটন পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলার সাহিত্য ঐতিহ্যে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য। প্রশাসন স্থানটির ইতিহাস বিষয়ে স্থানীয় গাইডদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে, যাতে তারা দর্শনার্থীদের রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে এর সংযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেন।