S. Jaishankar: “আফ্রিকা সম্ভাবনায় পরিপূর্ণ”: গান্ধীর ঐতিহাসিক বন্ধন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করালেন জয়শঙ্কর

বিশেষ প্রতিনিধি: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘আফ্রিকা দিবস’ উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ভারত ও আফ্রিকার হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা পুনরুচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারত ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী বন্ধন কেবল ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক নয়, বরং এটি অভিন্ন ইতিহাস, ঔপনিবেশিকতাবিরোধী সংগ্রাম এবং গভীর আদর্শগত মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

মহাত্মা গান্ধী ও আফ্রিকান নেতাদের অনুপ্রেরণা

ভাষণে মহাত্মা গান্ধীর দক্ষিণ আফ্রিকার দিনগুলোর কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে গান্ধীর সত্যাগ্রহ ও অহিংস নীতির সূচনার কথা উল্লেখ করে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সেই ঐতিহাসিক ও বিখ্যাত উক্তিটি পুনর্ব্যক্ত করেন— আপনারা আমাদের মোহনদাস গান্ধী দিয়েছেন, আমরা আপনাদের মহাত্মা দিয়েছি।”

জয়শঙ্কর জানান, মহাত্মা গান্ধীর প্রদর্শিত অহিংসা ও সংগ্রামের পথ পরবর্তীতে কোয়ামে এনক্রুমা, জুলিয়াস নায়ারারে এবং নেলসন ম্যান্ডেলার মতো প্রসংখ্যাত আফ্রিকান রাষ্ট্রনায়ক ও বিপ্লবীদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

সাগরজুড়ে সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও বিশ্বাসের মেলবন্ধন

ভারত মহাসাগরের ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র এই দুই ভূখণ্ডকে বিচ্ছিন্ন করেনি, বরং মৌসুমী বায়ুর ওপর ভর করে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একে অপরকে সংযুক্ত রেখেছে।

১.সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক আদান-প্রদান: শতাব্দী ধরে ভারত ও আফ্রিকার মানুষ কেবল পণ্য বাণিজ্যই করেনি; বরং খাদ্য, দর্শন, বিশ্বাস, জ্ঞান, লোককথা ও জীবনধারার আদান-প্রদান করেছে।

২.যৌথ ঐতিহাসিক সংগ্রাম: ঔপনিবেশিক শাসনামলে উভয় অঞ্চলের মানুষই একই ধরনের শোষণ ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদারক্ষার এই যৌথ লড়াই তাঁদের সংহতিকে আরও দৃঢ় করেছে।

সমতা ও দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব

স্বাধীনতার পর থেকে ভারত ও আফ্রিকা কোনো ছোট-বড় ভেদাভেদ ছাড়াই সমান ও সার্বভৌম অংশীদার হিসেবে পথ চলছে বলে জানান জয়শঙ্কর। আফ্রিকা দিবসকে ভারতের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও আবেগঘন এক উপলক্ষ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যকার হৃদয়ের টান প্রকাশ করার দিন।

অনুষ্ঠানের শেষে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ফরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটে আয়োজিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ৫০ জন আফ্রিকান কূটনীতিককে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। আফ্রিকার নতুন প্রজন্মের কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার এই উদ্যোগটি ভারতের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার অঙ্গীকারকেই সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।