নয়াদিল্লিতে আসন্ন সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী জুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দিল্লি পুলিশ প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূলত, নির্ধারিত সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুরো শহরে ১৪৪ ধারা বা নিষেধাঞ্জা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র এবং সংসদীয় এলাকাগুলোতে কার্যত দুর্গ গড়ে তুলেছে প্রশাসন।
উপলব্ধ তথ্যে জানা গেছে, পুলিশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই অভিযানের জন্য কোনো ধরনের পূর্বানুমতি প্রদান করা হয়নি। কোনো আন্দোলনকারী সংগঠনই প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া এই ধরণের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে না। প্রশাসনের তরফে পরিষ্কার ভাষায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, যারা এই নিষেধাঞ্জা অমান্য করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি, কোনো ব্যক্তি যদি এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেন, তবে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হবে বলে ডিসিপি পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছেন।
বর্তমানে রাজধানীর সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংসদ চত্বর, ইন্ডিয়া গেট এবং তার পার্শ্ববর্তী অতি স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আন্দোলনকারী সংগঠনের সদস্যদের ওপর পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। জনজীবন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এবং ট্র্যাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
যদিও এই সংসদ অভিযানের নেপথ্যে থাকা সংগঠন বা রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসন কোনো প্রকার ঝুঁকি নিতে মোটেও রাজি নয়। গত কয়েকদিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এমন কোনো কার্যকলাপ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন রাস্তায় ড্রোন ক্যামেরার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর মিলেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে এই ধরণের কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ বহুগুণ বেড়েছে। সংসদীয় এলাকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রশাসনের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সংসদ অভিযানের নেপথ্যের বিস্তারিত কারণ বা কোন সংগঠন এই ডাক দিয়েছে, সেই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য এই মুহূর্তে আমাদের কাছে নেই। তবে পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের কড়া নজর রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগ করে হলেও আইন মানতে বাধ্য করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরণের উস্কানিমূলক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী কয়েক ঘণ্টা রাজধানীর পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হতে পারে। শহরবাসীকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো প্রকার গুজব বা প্ররোচনায় পা না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত বিরতিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পর্যালোচনা করছেন। সংসদ অভিযানের পরিকল্পনাটি কতটা প্রভাব ফেলবে এবং প্রশাসন শেষপর্যন্ত কী কঠোর অবস্থান নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়েছে দিল্লির প্রতিটি কোণ। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে দিল্লি পুলিশ। জননিরাপত্তা এবং দেশের সংসদীয় মর্যাদার সাথে কোনো আপস করা হবে না বলে প্রশাসনের অন্দরে জোর জল্পনা চলছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে।








