আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ পরাজয় ঘরের বাইরে কঠিন পিচে ব্যাটসম্যানদের পারফর্ম করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। টপ অর্ডার ব্যর্থ হওয়ায় আয়ারল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে হতবাক হওয়ার পর, পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় ভারত, যেখানে আইপিএল-নির্ভর ব্যাটিং লাইনআপ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে, কিংবদন্তি ভারতীয় ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার ভারতের ফ্ল্যাট পিচ নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন এবং উল্টো নতুন ঘরোয়া মৌসুম শুরু হলে বাউন্ডারির আকার বাড়ানোর জন্য ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে (বিসিসিআই) অনুরোধ করেছেন।
গাভাস্কার উল্লেখ করেছেন যে, আইপিএলে যে শটগুলো সীমানা পার করছিল, সেই একই শটগুলো বিদেশের মাটিতে ডিপে ক্যাচ হয়ে যাচ্ছিল।
স্পোর্টস্টারের জন্য লেখা তাঁর কলামে গাভাস্কার লিখেছেন, “অনেকে বলছেন যে আইপিএলে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ফ্ল্যাট পিচ ও ছোট বাউন্ডারিতে বোলিংকে পিটিয়েছেন এবং তারপর ইংল্যান্ডের মতো অপরিচিত পরিস্থিতিতে ধরা পড়েছেন। আসল সত্যিটা হলো, ভারতে ফ্ল্যাট পিচ ছিল বটে, কিন্তু সেখানকার অবিশ্বাস্যরকম ছোট বাউন্ডারিগুলোই ব্যাটসম্যানদের জন্য সুবিধাজনক, যেখানে তাদের মিসহিট শটও সীমানা পার করে দেয়। অথচ যেসব দেশে বাউন্ডারি আরও বড় ও লম্বা, সেখানে এই একই শটগুলো বাউন্ডারি লাইনের ভেতরেই ক্যাচ হয়ে যায় । ”
গাভাস্কার মনে করেন যে, হোডিংয়ের পেছনের প্রশস্ত জায়গাগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিসিসিআইয়ের উচিত বিজ্ঞাপনের বোর্ড ও বাউন্ডারি লাইন পেছনের দিকে সরিয়ে দেওয়া।
নতুন ভারতীয় মরশুমে শুরু হলে বাউন্ডারির আকার বাড়ানোটা অত্যন্ত জরুরি, যাতে আগামী বছরের বিশ্বকাপের আগেই আমাদের ব্যাটসম্যানরা এতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। প্রায় প্রতিটি মাঠেই এলইডি বিজ্ঞাপনের বোর্ডগুলোর পেছনে মানুষের হাঁটার জন্য প্রচুর জায়গা রয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে এই জায়গাটি ব্যবহার করা হলে বাউন্ডারির আকার আপনাআপনিই বেড়ে যাবে,” তিনি আরও যোগ করেন।
গাভাস্কার আরও উল্লেখ করেছেন যে বাউন্ডারি লাইন কয়েক গজ পিছিয়ে দিলে ভারতীয় স্পিনাররা বলকে আরও বেশি ফ্লাইট দিয়ে পরিস্থিতির আরও ভালো সদ্ব্যবহার করতে পারবে।
তিনি বলেন, “এটি আমাদের স্পিন বোলারদেরও কিছুটা ধীরগতিতে বল করার সুযোগ দেবে, যাতে তারা ধীরগতির ডেলিভারির ফলে তৈরি হওয়া লুপ ও টার্ন আদায় করতে পারে। তারা বর্তমানে যে মিডিয়াম-পেস ডার্টার বলগুলো করে, সেগুলো আসলে ব্যাটসম্যানকে গতি ব্যবহার করতে, বলের নিচে যেতে এবং সজোরে বল গ্যালারিতে পাঠাতে সাহায্য করে। আদিল রশিদ এবং উইল জ্যাকস ভারতীয় স্পিনারদের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিমি/ঘণ্টা ধীরগতিতে বল করতেন এবং সে কারণে তাদের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ছিলেন।”








