মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র সংঘাতের মধ্যে এমন একটি চিত্র সামনে এসেছে যা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কয়েক দশক ধরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কেন্দ্রবিন্দু থাকা ইরাক থেকে বিদেশি বাহিনীর প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। মার্কিন বাহিনী আল-আসাদ বিমান ঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো ত্যাগ করেছে, যেখানে তারা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করছিল। ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে সর্বশেষ মার্কিন উপদেষ্টারাও ঘাঁটিগুলো ছেড়ে গেছেন এবং স্থানগুলো এখন ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে, আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে কিছু মার্কিন সৈন্য রয়ে গেছে, যেখান থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ন্যাটোও তার সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে
এই ঘটনাটি ইরাকের দীর্ঘ সামরিক সংঘাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ন্যাটোও ইরাক থেকে তাদের প্রশিক্ষণ মিশনের বাহিনী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে, ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে ন্যাটো ইরাক থেকে তাদের শত শত সৈন্যকে ইউরোপে স্থানান্তর করে। এই মিশনটি ২০১৮ সাল থেকে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য পরিচালিত হচ্ছিল, কিন্তু আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ন্যাটো এখন ইতালির নেপলসে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তর থেকে ইরাকি বাহিনীকে দূরবর্তী সহায়তা প্রদান করবে।
জর্ডান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ছবি
আজ সকালে ইরাকি বেসামরিক নাগরিকদের ধারণ করা একটি ভাইরাল ভিডিওতে জর্ডান থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার বা পুনঃস্থাপন দেখানো হয়েছে। এই ঘটনাটি ইরাকের দীর্ঘ সামরিক সংঘাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর চাপ বজায় রেখেছে, যা প্রত্যাহার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। যদিও ‘ভিক্টোরিয়া বেস’-এ ২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির মতো কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার খবর নিশ্চিত করা হয়নি, মিলিশিয়াদের হামলা আঞ্চলিক গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করেছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব
ইরান যুদ্ধ পরোক্ষভাবে ইরাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর উপস্থিতির অবসানে ভূমিকা রেখেছে। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন যে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করবে এবং মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি একটি হুমকি। এই প্রত্যাহারকে ইরাকের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কিন্তু কুর্দি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত উপস্থিতি অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কুর্দি এলাকায় উপস্থিতি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকের প্রায় সব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবে উত্তরের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কিছু মার্কিন সেনা রয়ে গেছে। বাগদাদের ভিক্টোরিয়া ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের নিরাপদ ও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়ারা ২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে।







