গাজা যুদ্ধ প্রসঙ্গে একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ (অস্ত্র সমর্পণ) এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, সকল পক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে এই চুক্তিটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। হামাসও এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যদিও এর জন্য তারা ইসরায়েলকে কিছু শর্ত পূরণের কথা বলেছে।
চুক্তির মূল শর্তাবলী
চুক্তি অনুসারে, হামাস পর্যায়ক্রমে তার সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র একজন মার্কিন জেনারেলের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রায় ৫,০০০ সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবে।
চুক্তি অনুসারে-
১) হামাস পর্যায়ক্রমে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে।
২) সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ দিন সময় লাগতে পারে।
৩) গাজায় নির্মিত টানেল নেটওয়ার্কটিও নিষ্ক্রিয় করা হবে।
৪) নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে সরে যাবে।
৫) আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেবে।
৬) চুক্তি অনুসারে, একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠিত হবে, যা পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতায় প্রশাসন পরিচালনা করবে।
চুক্তিটি ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই চুক্তির ঘোষণা দিয়ে একে গাজায় স্থায়ী শান্তির পথে একটি বড় পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ চুক্তিটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
ট্রাম্পের মতে, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সরে যেতে শুরু করবে। এরপর আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং গাজা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
হামাসও সম্মত
হামাসের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেছেন, দলটি রোডম্যাপটিতে সম্মত হয়েছে। তবে, তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে চুক্তিটি বাস্তবায়নের আগে ইসরায়েলকেও তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। হামাসের দাবি, ইসরায়েলকে অবশ্যই সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
১৪ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হবে
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, সকল পক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের ১৪ দিনের মধ্যেই চুক্তিটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মাধ্যমে গাজায় একটি নতুন টেকনোক্র্যাটিক ফিলিস্তিনি সরকার গঠিত হবে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি বোর্ডের সমন্বয়ে এলাকাটি পরিচালনা করবে এবং একটি নতুন পুলিশ ব্যবস্থা চালু হবে।
নতুন সরকার ও পুলিশ দায়িত্ব গ্রহণ করবে
চুক্তি অনুসারে, গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠিত হবে, যা প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করবে। আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেবে এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। এরপর গাজার প্রশাসন স্থানীয় সরকার ও পুলিশের হাতে থাকবে।








