ভারত-নেপাল সীমান্তে দীর্ঘদিনের নজরদারির পর অবশেষে বড়সড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুই সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা। ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে এই অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতরা দীর্ঘ দিন ধরেই বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিল। বিশেষ নজরদারির মাধ্যমেই তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। রবিবার ভারত-নেপাল সীমান্তের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসটিএফের একটি বিশেষ দল এই দুজনকে পাকড়াও করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই কলকাতার এসটিএফ সদর দফতরে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও কোনো মডিউল যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বারবার রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগকে সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশের বিষয়টিতে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের এই কড়া অবস্থানের জেরেই পুলিশের সক্রিয়তা বেড়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের অভিমত। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় যে ধরনের দুর্বল নজরদারির অভিযোগ উঠত, তা কাটিয়ে বর্তমান প্রশাসন এখন সন্ত্রাসবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পক্ষ থেকে এই সাফল্যকে রাজ্য পুলিশের সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী বড় অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাদের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য গ্যাজেট ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ এবং গত কয়েক সপ্তাহের যাতায়াতের রেকর্ড খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তাদের ঠিক কী ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল এবং তাদের সাথে কোন নিষিদ্ধ সংগঠনের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, তা জানার জন্য মরিয়া তদন্তকারীরা। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ধৃতদের জেরা করলে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
উল্লেখ্য যে, পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ভারত-নেপাল সীমান্ত বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠার আশঙ্কা ছিল, কিন্তু এসটিএফের এই সফল অপারেশনের ফলে অপরাধীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই পুরো ঘটনার তদন্তে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং তাদের আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক কোথায় কোথায় ছড়িয়ে রয়েছে, তা খুঁজে বের করাই এখন এসটিএফের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ধৃতদের পরিচয় বা তাদের নির্দিষ্ট কোন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে, সেই সংক্রান্ত বিশদ তথ্য বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। গোয়েন্দা স্বার্থে তদন্তের এই পর্যায়ে গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে, বড় কোনো নাশকতার ছক যে ভেস্তে দেওয়া গেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত গোয়েন্দা আধিকারিকরা। রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছেও আর্জি জানানো হয়েছে যাতে যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে তারা স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত অবহিত করেন।








