মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা নিয়ে মোদী- ম্যাক্রোঁ ফোনালাপ, কী কথা হয় দুই নেতার মধ্যে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন আলাপ করেছেন। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হন। উল্লেখ্য যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করে হরমুজ প্রণালীসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এক্স পোস্ট

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, “আমার প্রিয় বন্ধু রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আমাকে ফোন করেছিলেন। আমরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং হরমুজ প্রণালীতে অবিলম্বে নিরাপত্তা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছি। এই অঞ্চলে এবং এর বাইরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রসারের জন্য আমরা আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।” তিনি আরও বলেন যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ভারত ও ফ্রান্স একসঙ্গে কাজ করে যাবে।

অস্ট্রিয়ান চ্যান্সেলর স্টকারের সঙ্গে বৈঠক

এই প্রেক্ষাপটে, আজ নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকারের মধ্যে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে । এই বৈঠকে উভয় নেতা পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপদ ও বাধাহীন সমুদ্রপথ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (পশ্চিম) সচিব সিবি জর্জ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “উভয় পক্ষ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের সাম্প্রতিক উদ্বেগজনক ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা করেছে এবং সামুদ্রিক জাহাজগুলোর নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচলসহ বিভিন্ন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।”

ফ্রান্স-ব্রিটেন যৌথ সম্মেলন

এদিকে, ফ্রান্স ও ব্রিটেন ৪০টিরও বেশি দেশকে নিয়ে একটি যৌথ সম্মেলনের আয়োজন করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ নিশ্চিত করেছেন যে, এই সপ্তাহের শুক্রবার প্যারিসে ভিডিও কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথে নিরাপদ নৌচলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশ একটি “বহুপাক্ষিক ও প্রতিরক্ষামূলক মিশনে” একসঙ্গে কাজ করবে।