ওয়াইএসআরসিপি নেতার অভিযোগ: ১০০ কোটির জমি কেলেঙ্কারিতে জড়িত জেলাশাসক

অন্ধ্রপ্রদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করে সাবেক বিধায়ক এবং ওয়াইএসআরসিপি (YSRCP) নেতা করম ধর্মশ্রী বর্তমান জেলাশাসকের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, আনুমানিক ১০০ কোটি টাকার একটি বিশাল জমি কেলেঙ্কারির পেছনে খোদ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তার সরাসরি মদত রয়েছে। একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় ধর্মশ্রী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, যে জেলাশাসকের ওপর সরকারি সম্পদ রক্ষা করার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে, তিনিই যদি এই ধরণের অনিয়মের পথ প্রশস্ত করে দেন তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনায় তিনি অবিলম্বে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো বা সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।ধর্মশ্রী অভিযোগ করেছেন যে এই দুর্নীতির জাল অনেক গভীরে বিস্তৃত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশ ছাড়া এই পরিমাণ সরকারি জমি আত্মসাৎ করা সম্ভব নয়। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই ধরণের বিশাল অভিযোগ সামনে আসা সত্ত্বেও কেন রাজ্যের রাজস্ব মন্ত্রী এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র নেতারা নীরবতা পালন করছেন। এই নীরবতা প্রকারান্তরে অপরাধীদের সুরক্ষা দিচ্ছে কি না, তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। সাবেক এই বিধায়ক দাবি করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু সরকারি নথি জাল করে এবং নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ব্যক্তিস্বার্থে শত কোটি টাকার এই ভূমি রাজস্ব ক্ষতি করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, একমাত্র উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তই পারে এই চক্রের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে।সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সরকারি জমি আমজনতার সম্পদ। সেই সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা যখন দুর্নীতির অংশীদার হন, তখন সাধারণ মানুষের প্রশাসনের ওপর থেকে ভরসা উঠে যায়। ধর্মশ্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, সরকার যদি এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় এবং জেলাশাসকের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত শুরু না করে, তবে তার দল আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। এই জমি কেলেঙ্কারির ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং বিরোধী শিবির এই ইস্যুতে সরকারকে চাপে ফেলার জন্য কৌশল সাজাচ্ছে। রাজস্ব দপ্তরের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। মূলত বিশাখাপত্তনম এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মূল্যবান জমিগুলোকে কেন্দ্র করেই এই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে। করম ধর্মশ্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যতক্ষণ না পর্যন্ত অপরাধীরা শাস্তি পাচ্ছে এবং লুটে নেওয়া জমি সরকারি হেফাজতে ফিরে আসছে, ততক্ষণ তাদের লড়াই চলবে। এখন দেখার বিষয় যে সরকার এই সিবিআই তদন্তের দাবিতে কতটা কর্ণপাত করে এবং প্রশাসনিকভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।