ইডেনে দুর্গাপূজার মহালগ্নে প্রধানমন্ত্রী, সেজে উঠছে ঐতিহাসিক ময়দান

কলকাতা তথা সমগ্র বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এবার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে এক অভূতপূর্ব এবং বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আসন্ন শারদোৎসবের প্রাক্কালে ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সে একটি জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি ঘিরে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই আয়োজনকে সফল করে তুলতে রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।

বাংলার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজার গভীর আমেজ এবং বিশ্বখ্যাত ইডেন গার্ডেন্সের মেলবন্ধন এবারের উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেবীপক্ষের সূচনালগ্ন বা মহালয়ার পবিত্র মুহূর্তেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। ইডেন গার্ডেন্সের মতো বিশ্বমানের স্টেডিয়ামে সচরাচর এ ধরনের বিশাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় না, যা এই আয়োজনকে আরও বেশি বিশেষ করে তুলেছে। রাজ্যের শাসকদল বিজেপির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিকে সফল করতে যাবতীয় প্রস্তুতি ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছে এবং মতপার্থক্য প্রকাশ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অনুষ্ঠানের প্রতিটি খুঁটিনাটি ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। রাজ্যের শাসনভার পরিবর্তনের পর এটি সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অন্যতম বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ সফর হতে চলেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে দুর্গাপূজার যে আড়ম্বর ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি গড়ে উঠেছিল, সেই ধারাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে বর্তমান সরকার এই উৎসবকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী সংগীত এবং কারুশিল্পের এক অনন্য ও অপূর্ব মিশেল থাকবে।

ইডেন গার্ডেন্সের সুবিশাল গ্যালারি এবং মাঠজুড়ে বিশেষ আলোকসজ্জার অভূতপূর্ব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসন কোনোভাবেই আপস করতে নারাজ। এসপিজি এবং রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলার কঠোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ যাতে এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন প্রান্তে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শকদের সুবিধার জন্য বিশেষ গ্যালারির বন্দোবস্তও রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছর ধরে দুর্গাপূজার মাহাত্ম্য ও আকর্ষণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষত ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই কলকাতার দুর্গাপূজা কেবল একটি উৎসবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি এক বিশাল অর্থনীতি এবং বিশ্ব পর্যটনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইডেন গার্ডেন্সে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি উৎসবের আবহকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে আয়োজকদের দৃঢ় বিশ্বাস। অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী, মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠের সেই চিরন্তন চণ্ডীপাঠের সুর এবং আধুনিক প্রযুক্তির আলোকসজ্জার সংমিশ্রণে এক বর্ণময় অধ্যায়ের সূচনা হবে, যা বাংলার ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এই আয়োজনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ পাস বা টিকিটের ব্যবস্থা করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনিকভাবে সমস্ত দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে। উৎসবের আমেজে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং বিপুল মানুষের ভিড় সামলাতে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নতুন ও কড়া রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। কলকাতার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে এখন উৎসবের প্রস্তুতির ঝলক স্পষ্ট। শহরবাসী এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে মহালয়ার সেই বিশেষ দিনটির দিকে, যখন ইডেন গার্ডেন্সের সবুজ ঘাসের ওপর ফুটে উঠবে শারদীয় উৎসবের উজ্জ্বল রঙিন আভা। অনুষ্ঠানের বিস্তারিত সূচি এবং অংশগ্রহণের নিয়মাবলি খুব শীঘ্রই সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মহোৎসবের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সারা বাংলা।