রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা বাম-কংগ্রেস জোটের

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়িয়ে আসন্ন উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে তোড়জোড়। এরই মধ্যে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বাম ও কংগ্রেস জোট। দীর্ঘ আলোচনার পর আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে দুই দলই ময়দানে নামার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উপনির্বাচন রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। বিরোধী দলনেত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে এই লড়াইয়ে নিজেদের প্রভাব কতটা বজায় রাখতে পারে বাম-কংগ্রেস জোট, তা দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, বর্তমানের শাসক দল বিজেপি এই দুটি কেন্দ্র ধরে রাখতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসও এই নির্বাচনে নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের জন্য মরিয়া। এই প্রেক্ষাপটে বাম এবং কংগ্রেসের যৌথভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে তাদের জোটের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা চলছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দলই তাদের দলীয় প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে।

নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম, যা গত কয়েক বছরে রাজ্যের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, সেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাবকে টেক্কা দেওয়া বাম-কংগ্রেসের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গায় বাম-কংগ্রেস জোট কতটা জনসমর্থন আদায় করতে পারে, তা এখন বড় প্রশ্ন।

প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় দুই দলের নেতৃত্বই দাবি করেছেন যে, রাজ্য সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং উন্নয়নের নামে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেই তারা প্রচার চালাবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃত্ব। বাম ও কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে যে, এই নির্বাচনী লড়াই কেবলমাত্র আসনের লড়াই নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই।

বর্তমানে রাজ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। একদিকে শাসক দল বিজেপি নিজেদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এই দ্বি-মুখী চাপের মাঝে বাম-কংগ্রেস জোটের এই প্রার্থী ঘোষণা ভোটের সমীকরণকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।

নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া থেকে শুরু করে প্রচারের সময়সীমা পর্যন্ত সমস্ত প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবে নির্বাচন কমিশন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই উপনির্বাচন পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের ভোটাররা কাকে বেছে নেন, তা জানার জন্য এখন চূড়ান্ত ফলপ্রকাশের অপেক্ষায় রাজ্যবাসী। এদিকে, নির্বাচনী প্রচারের নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করার কাজে হাত দিয়েছে জোটের জেলা নেতৃত্ব। বুথস্তরে কর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে।

সব মিলিয়ে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই কেন্দ্রের বাতাস এখন রাজনৈতিক প্রচারে সরগরম। শাসক দল এবং বিরোধী পক্ষের হেভিওয়েট নেতারা কবে এই দুই কেন্দ্রে প্রচারে আসবেন এবং কী বার্তা দেবেন, সেদিকেও নজর থাকবে আমজনতার। আপাতত এই উপনির্বাচন রাজ্যের আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বা জয়ের ব্যবধান সম্পর্কে এখনো কোনো বিস্তারিত পরিসংখ্যান বা জনমত সমীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি।