কেএমসি নির্বাচনের প্রস্তুতি: বুথের সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে বৈঠক

কলকাতা পৌরনিগমের আসন্ন নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার শহরের রিটার্নিং অফিসাররা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন, যেখানে মূলত বিভিন্ন ওয়ার্ডের বুথ সীমানা নির্ধারণ এবং ভৌগোলিক পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কলকাতা শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং প্রশাসনিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে রিটার্নিং অফিসারদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে যেন বুথগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ভোটারদের যাতে দীর্ঘ লাইন দিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়, সেই বিষয়ে কমিশন বিশেষ নজর দিচ্ছে। এছাড়া, যে সমস্ত এলাকায় নতুন আবাসন গড়ে উঠেছে, সেখানকার ভোটারদের তালিকা এবং বুথের অবস্থান নিয়ে মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষা চালানোর জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে আসন্ন এই পৌর নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তথা বর্তমান বিরোধী পক্ষ টিএমসি এই নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সুর চড়াতে শুরু করেছে। শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী দল টিএমসি-র মধ্যে এই নির্বাচনের প্রেক্ষিতে যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, তা কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, বুথ বিভাজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিয়মাবলি মেনে চলা হবে। যেসব এলাকায় ভোটার সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে নতুন বুথ গঠনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, বুথগুলোতে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

কলকাতা পৌরনিগমের প্রতিটি ওয়ার্ডে যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি রিটার্নিং অফিসারকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বুথের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং তারপর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ বা পরামর্শ গ্রহণ করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেএমসি নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সব রাজনৈতিক দলই। শাসক দল বিজেপি চাইছে তাদের বর্তমান উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করতে, অন্যদিকে বিরোধী দল টিএমসি বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়ে নির্বাচনে ভালো ফলের আশা করছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রস্তুতি ঘিরে শহর কলকাতায় এখন থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, বুথের সীমানা সংক্রান্ত কোনো অস্পষ্টতা থাকলে তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলার জন্য রিটার্নিং অফিসারদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের তালিকায় কোনো নাম বাদ যাওয়া বা ভুল থাকা সংক্রান্ত অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কমিশন চাইছে, নির্বাচনের আগে যেন কোনো ভোটারই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা থেকে বঞ্চিত না হন।

আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে বুথ পুনর্বিন্যাস এবং নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও নির্বাচনের চূড়ান্ত দিনক্ষণ নিয়ে এখনও কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তবে সব মিলিয়ে শহর জুড়ে এখন নির্বাচনী হাওয়ার দোলাচল স্পষ্ট। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো বাড়তি তথ্য বা নির্দিষ্ট ওয়ার্ড ভিত্তিক বিস্তারিত পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি, তবে তা পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিগুলোতে স্পষ্ট হবে বলে কমিশন আশ্বস্ত করেছে।