দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে ৩ হাজার ড্রোনের রোশনাই, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্

কলকাতার শরৎকালীন উৎসবের আমেজ এবার ভিন্ন মাত্রায় ধরা দিতে চলেছে। আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, দেবী দুর্গার আবাহন এবং উৎসবের সূচনাকে স্মরণীয় করে রাখতে শহর কলকাতার আকাশে একযোগে উড়বে প্রায় ৩ হাজার অত্যাধুনিক ড্রোন। এই ড্রোন শো-এর মাধ্যমে আকাশের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হবে বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন চিত্র। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই শহরজুড়ে উৎসাহের পারদ তুঙ্গে।

নবান্ন সূত্রে খবর, উৎসবের মরসুমে রাজ্যের শিল্প ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই বিশেষ প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৩ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়টিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বাংলার ঐতিহ্য এবং সনাতন সংস্কৃতিকে আধুনিক প্রযুক্তির মিশেলে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। কলকাতার আকাশে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক ড্রোন ওড়ানো প্রযুক্তিগত দিক থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নিয়ে ইতিমধ্যে মহড়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। বর্তমানে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির শাসন চলছে। শাসক দল বিজেপি এই উৎসবকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, এবারের পুজো হবে অতীতের তুলনায় অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ। রাজ্যের পর্যটন এবং সংস্কৃতি দপ্তর যৌথভাবে এই ড্রোনের প্রদর্শনী পরিচালনা করবে। দর্শনার্থীরা যাতে সুরক্ষিতভাবে এই দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, ৩ হাজার ড্রোন একসাথে ওড়ানো একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। এর জন্য বিশেষ সফটওয়্যার এবং সেন্সর ব্যবহার করা হবে যাতে কোনোভাবেই দুর্ঘটনা না ঘটে। ড্রোনের লাইট শো-এর মাধ্যমে দেবীর প্রতিমূর্তি থেকে শুরু করে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের আবহ তৈরি করা হবে। শহরের নির্দিষ্ট কিছু স্থান থেকে এই শো দেখা যাবে। বিশেষত গঙ্গার ঘাট এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বরে ভিড় সামলানোর জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মণ্ডপগুলোতেও এই প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারাও। তাদের মতে, প্রযুক্তির এই প্রদর্শনী পর্যটকদের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। বিদেশি পর্যটকদের কাছেও বাংলার দুর্গাপুজো একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, আর এই ড্রোন শো সেই আকর্ষণকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলবে। তবে, নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো খামতি রাখা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা। উৎসবের দিনগুলিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত থেকে এই ড্রোন শোর সূচনা করবেন বলে জানা গেছে। তবে এই অনুষ্ঠানের ঠিক কোন জায়গায় বা কত সময় ধরে এই ড্রোন প্রদর্শনী চলবে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত সূচি বা নির্দিষ্ট সময়ের তথ্য এখনও সরকারিভাবে জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অনুষ্ঠানস্থলের বিস্তারিত ব্লু-প্রিন্ট ও সাধারণের জন্য নির্দেশিকা জারি করা হবে। প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত হতে চলা তিলোত্তমার দুর্গাপুজোর দিকে এখন তাকিয়ে গোটা বাংলা। রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব এই আয়োজনকে সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, উৎসবের আনন্দে যেন কোনোভাবেই বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, এই ড্রোন শো নিয়ে শহরজুড়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা বাংলার পুজো পর্যটনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় পুজো কার্নিভাল জনপ্রিয় হয়েছিল, আর বর্তমান শাসকদল বিজেপি এবার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে তাকে নতুন রূপে সাজাতে তৎপর। সব মিলিয়ে, আগামী দিনগুলিতে উৎসবের মহানগরী যে এক অভাবনীয় দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, যখন আকাশজুড়ে ৩ হাজার ড্রোনের কারসাজি মুগ্ধ করবে আপামর বাঙালিকে।