গাজলডোবা থেকে সল্টলেক: পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে ১৭ একর জমি রাজ্যের

রাজ্যে পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পের প্রসারে এক অভূতপূর্ব ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। সরকারি সূত্রের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মোট ১৭ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মূলত উন্নতমানের হোটেল, বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং পর্যটন সংক্রান্ত নানাবিধ বাণিজ্যিক বিনিয়োগের জন্য লিজ বা দীর্ঘমেয়াদী ইজারা দেওয়া হবে। গাজলডোবার নৈসর্গিক সৌন্দর্য থেকে শুরু করে সল্টলেকের আধুনিক পরিকাঠামো—এই বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় এলাকায় বিনিয়োগ টানতেই রাজ্য সরকার এমন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যে সামগ্রিক শিল্পায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রকে বিশ্বদরবারে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং স্থানীয় স্তরে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক কর্তারা আশ্বস্ত করেছেন। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পর্যটন শিল্পের পরিকাঠামো উন্নয়নে যে ধারা সূচিত হয়েছিল, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার তাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে বলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের ধারণা। সরকারের লক্ষ্য হলো—পর্যটনকে কেবল একটি বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে না রেখে, একে একটি শক্তিশালী শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

বিনিয়োগের জন্য চিহ্নিত এই ১৭ একর জমির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে উত্তরবঙ্গের গাজলডোবা। পর্যটকদের কাছে ইতিমধ্যেই অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ভোরের আলো’ প্রকল্পটি। সেখানে নতুন করে আরও জমি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার ফলে পর্যটন পরিকাঠামো আরও সুসংহত ও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি হাব হিসেবে পরিচিত সল্টলেকেও কিছু মূল্যবান জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত ব্যবসায়িক কাজে আগত ভ্রমণকারীদের কথা মাথায় রেখে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের বড় হোটেল ও কনভেনশন সেন্টার তৈরির সুযোগ থাকবে বলে জানা গেছে।

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই জমিগুলো সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিলাম অথবা দীর্ঘমেয়াদী ইজারার মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে হস্তান্তর করা হবে। যারা এই সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং সুবিধাজনক নীতি গ্রহণ করার কথাও ভাবছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু পরিকাঠামোই তৈরি হবে না, বরং স্থানীয় স্তরে বহু মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক চাকাকে আরও গতিশীল করবে।

উল্লেখ্য, পর্যটন শিল্পে অতীতে যেটুকু অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছিল, বর্তমান সরকার তাকে আরও ত্বরান্বিত করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের দাবি, রাজ্যের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। গাজলডোবার শান্ত প্রকৃতি থেকে শুরু করে সল্টলেকের মতো মহানগরীর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান ও স্বচ্ছ সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, হোটেল ও আতিথেয়তা শিল্পের জন্য এই জমি বণ্টন কেবল বাণিজ্যিক বিষয় নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি সুচিন্তিত প্রয়াস।

খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা এবং শর্তাবলী সরকারি পোর্টালে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। তবে কোন সংস্থাকে কত জমি দেওয়া হবে বা ঠিক কী কী শর্তে তা ইজারা দেওয়া হবে, সেই সংক্রান্ত বিশদ তথ্য এখনও সরকারিভাবে চূড়ান্ত হয়নি। পর্যটন দপ্তরের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লে রাজ্যের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আগামী দিনে আরও অনেক নতুন ও অপ্রচলিত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও সরকার সূত্রে জানা গেছে।

রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে দেখছে সরকার। গাজলডোবা থেকে সল্টলেক পর্যন্ত এই ১৭ একর জমির সফল ও পরিকল্পিত ব্যবহার বাংলার পর্যটন শিল্পে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রের এই পুনর্গঠন আগামী দিনে রাজ্যকে দেশের অন্যতম পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই বিনিয়োগের জোয়ার রাজ্যের অর্থনীতির ভিতকে আরও শক্তিশালী করবে।