দেশভাগের বিভীষিকা স্মরণ করে বাম ও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শ

দেশভাগের ট্র্যাজিক স্মৃতি এবং বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফের একবার সরব হলেন বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশভাগের বিভীষিকাময় অধ্যায়কে স্মরণ করে বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইতিহাসের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতের বিপদ অনিবার্য। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তাঁর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তৃতায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্দশা এবং তাদের ওপর ঘটে চলা সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যখন সেখানে হিন্দুরা অস্তিত্বের সংকটে ভুগছেন, তখন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি রাজনৈতিক কৌশলের থেকেও বেশি মানবিকতার সংকট। তিনি দাবি করেছেন যে, বিরোধী দলের নেতারা এই বিষয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন, কারণ তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যস্ত।

বামফ্রন্টের দিকে আঙুল তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বামপন্থীরা চিরকালই ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। দেশভাগের জন্য দায়ী পরিস্থিতির কথা তারা বারবার চেপে যেতে চেয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখন সচেতন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশভাগের সময় যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ গিয়েছিলেন, তা আজও বাঙালি জাতির মনে ক্ষত তৈরি করে রেখেছে। সেই ক্ষতকে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করে, তাদের মুখোশ খুলে দেওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। শাসক দল হিসেবে বিজেপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আগামী দিনেও তারা সেই নীতি বজায় রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে আরও দাবি করেন যে, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে যে তোষণ নীতির রাজনীতি শুরু হয়েছিল, তা পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে সংখ্যালঘু তোষণের নামে সংখ্যাগুরু মানুষের ওপর অবিচার করা হয়েছে। আজকের সরকার সেই বিভাজন মুছে ফেলে ন্যায়ের পথ ধরে এগোতে চাইছে। তিনি বলেন, দেশভাগের সময়কার সেই অসহায়তা যেন রাজ্যের মানুষের জীবনে আর কখনও ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

এছাড়াও তিনি জানান যে, কেন্দ্র ও রাজ্য সমন্বয় রেখে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে যাতে কোনোভাবেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা দেশের অখণ্ডতা এবং সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন পিছপা হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণ মূলত লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সরকারের হিন্দুত্বের ভোটব্যাংককে সুসংহত করার একটি প্রয়াস। পাশাপাশি, বিরোধী দলগুলো যে দেশীয় স্বার্থে কাজ করছে না, সেই বার্তাটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট অবশ্য এই অভিযোগের পাল্টা কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও দেয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়ালো, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আগামী দিনে এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবির কী ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলি নিয়ে প্রশাসন সজাগ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।