নেপালে আকস্মিক হড়পা বানে বাংলার ৩৩ জন পর্যটকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়ার পথে ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন এই পর্যটক দলটি। বর্তমানে তাঁদের কোনো খোঁজ না মেলায় উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সকলে তাঁদের প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় অলৌকিক কোনো সংবাদের জন্য প্রার্থনা করছেন।
জানা গিয়েছে, এই পর্যটক দলটি কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আচমকাই পাহাড়ি ঢল বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের কবলে পড়ে তাঁদের যাত্রাপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, দুর্যোগের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটি প্লাবিত হয়ে যায় এবং যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর থেকে ৩৩ জন পর্যটকের সঙ্গে আর কোনোভাবেই যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
এই বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপাল প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দুর্গম এলাকাগুলিতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। আকাশপথে নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে বলে খবর।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার ওপর গভীর নজর রাখছেন বলে জানা গেছে। রাজ্য সরকারের তরফে প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং উদ্ধারকার্য ত্বরান্বিত করার জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্র ও নেপাল সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছে রাজ্য প্রশাসন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা এখন প্রতি মুহূর্তে খবরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি অভিযানের গতি আরও বাড়ানো হবে। তবে বর্তমানে আকাশপথে উদ্ধারকাজ চললেও পাহাড়ের অভ্যন্তরে স্থলপথে পৌঁছানো খুবই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধারকার্য যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। বর্তমানে বিরোধী দল হিসেবে টিএমসি এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং রাজ্য সরকার কীভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে, তার দিকেও নজর রেখেছে তারা। শাসক দল বিজেপি রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সম্ভাব্য সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে।
উদ্ধারকার্যে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারগুলি পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালাচ্ছে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে প্রতিক্ষণে আপডেট নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত ওই ৩৩ জন পর্যটক সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য হাতে আসেনি। তাঁরা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন বা সুরক্ষিত কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য বর্তমানে পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী দলগুলি জানিয়েছে যে, বিপর্যয়স্থলটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ার কারণে উদ্ধারকারীদের পৌঁছাতে সময় লাগছে। পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে ভারত সরকারও সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সাহায্য প্রদান করছে। উদ্ধারকার্যের অগ্রগতি এবং নিখোঁজ পর্যটকদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানা গেছে।








