রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আবারও কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন যে, বিগত সরকারের আমলে যেভাবে রাজ্যের খনিজ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করা হয়েছিল, তা আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে এই ধরণের দুর্নীতির কোনো অবকাশ নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন অতীতের বামফ্রন্ট তথা তৃণমূল কংগ্রেস জমানাকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের সম্পদ একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলের হাতে কুক্ষিগত ছিল। রাজ্যের খনি এলাকা থেকে শুরু করে অরণ্য সম্পদ পর্যন্ত সর্বত্রই সিন্ডিকেট রাজ কায়েম ছিল। তার জেরে সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে এই লুটতরাজের ধারা অব্যাহত ছিল বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, উন্নয়নের নামে সেই সময়ে আসলে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির খেলাই চলেছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। রাজ্যের সম্পদ মানে রাজ্যের মানুষের সম্পদ। এটি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। গত সরকারের শাসনামলে যে অনিয়ম হয়েছিল, তা আমরা ধাপে ধাপে খতিয়ে দেখছি। আমরা নিশ্চিত করছি যে ভবিষ্যতে এই ধরণের কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না।” তিনি আরও জানান, রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা এতদিন ধরে রাজ্যে লুণ্ঠনের রাজত্ব চালিয়েছে, তারা এখন উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখন সচেতন। তারা বিগত সরকারের জমানার দুর্নীতি এবং বর্তমান সরকারের কাজের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারছেন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান তৈরির যে কর্মসূচি নিয়েছে, তাতে প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, যেসব এলাকায় খনিজ সম্পদ রয়েছে, সেখানে যেন অবৈধ খনন বা পাচার কোনোভাবেই না হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনকে এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাজ্যের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে খনিজ আহরণ করা যায়, তার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গের মাটি এবং জল আমাদের ঐতিহ্য। বিগত আমলে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা সারিয়ে তুলতেই বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মানুষের টাকা যেন রাজ্যেরই উন্নয়নে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকার দায়বদ্ধ। কোনো মহলের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সরকার জনস্বার্থে কাজ করে যাবে।
পরিশেষে, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, আগামী দিনগুলিতে রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিই বর্তমান সরকারের প্রধান চাবিকাঠি। যারা অতীতের মতো লুটপাটের মানসিকতা নিয়ে বসে আছেন, তাদের উদ্দেশ্যেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক স্তরে অসাধু চক্রকে নির্মূল করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের রূপরেখা পেশ করেন এবং আগামী দিনে একটি দুর্নীতিমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়ার আহ্বান জানান।








