কলকাতা: রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোট গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। রাজ্যের শাসনক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি তুলেছেন, ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোট গণনার সিসিটিভি ফুটেজ অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি নিজেকে দেশপ্রেমিক বলে দাবি করেন, তবে তিনি যেন জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দেমাতরম’-এর চারটি স্তবক গেয়ে শোনান। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তাপ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল পার্টি অফিসে। দলীয় কার্যালয়ের সামনে একটি অননুমোদিত বিলবোর্ড বসানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। সেই বিবাদ মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের হস্তক্ষেপে মোট তেরো জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই মিথ্যে মামলায় দলের নেতাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে শাসক দল বিজেপি। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরণের আইনি পদক্ষেপ তৃণমূলের কণ্ঠরোধ করতে পারবে না। তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে যে দাবি তুলেছেন, তা নিয়ে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। অতীতে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল বলে দাবি করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে বর্তমানের বিজেপি শাসিত রাজ্যে পুলিশ প্রশাসন বিরোধীদের দমন করতেই ব্যস্ত বলে অভিযোগ তৃণমূলের অন্দরে।
ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ঘটনার পর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কর্মীরা। তেরো জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিলবোর্ডের ঘটনা নিতান্তই একটি স্থানীয় বিষয়, কিন্তু তাকে রাজনৈতিক আকার দিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার বিষয়টি নিয়েও তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আসলে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের প্রতিফলন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দলের রণকৌশল নির্ধারণ করছেন। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার রাজ্যে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চ্যালেঞ্জের পাল্টা কোনো মন্তব্য এখনও মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে পাওয়া যায়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ সংক্রান্ত দাবি এবং ‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে মন্তব্য যে নতুন করে বিতর্ক উসকে দেবে, তা নিশ্চিত। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তৃণমূলের রণকৌশল এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ বা সিসিটিভি ফুটেজ কবে নাগাদ প্রকাশ্যে আসবে, সেই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতিতে এই ঘটনা নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








