মুকুন্দপুরে হোটেল উচ্ছেদের জল্পনা, প্রশাসনের কড়া নজর এলাকায়

কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকা বর্তমানে প্রশাসনিক অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শহরের দ্বিতীয় ‘মিনি বাংলা’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা হোটেল ও লজগুলির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ায় স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কলকাতার বুকে এই ধরনের অভিযান পরিচালনার বিষয়টি এখন প্রশাসনিক মহলে আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। মূলত, নিয়ম বহির্ভূত নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবকে কেন্দ্র করেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে খবর।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নগর পরিকল্পনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সেই নির্দেশ মেনেই মুকুন্দপুরের মতো জনবহুল এলাকায় সরকারি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে এই এলাকায় যে ধরনের অসংগঠিত নির্মাণ ও ব্যবসায়িক পরিকাঠামো গড়ে উঠেছিল, তা বর্তমানে বর্তমান সরকারের কড়া নজরে রয়েছে। রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপি এই উচ্ছেদ অভিযানকে স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করলেও স্থানীয় স্তরে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান বজায় রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মুকুন্দপুর এলাকায় গত কয়েক বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির একাংশ যথাযথ নিয়ম না মেনেই পরিচালিত হচ্ছিল। বিশেষ করে, নিরাপত্তার মানদণ্ড এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় পুরসভার পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও অনেকে তা কর্ণপাত করেননি। এরই প্রেক্ষিতে বর্তমান প্রশাসনের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযান স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

প্রশাসনিক আধিকারিকদের কথায়, শহরে বেআইনি হোটেলের অস্তিত্ব জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে মুকুন্দপুর, যা শহরের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত, সেখানে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে। যেসব হোটেলে বৈধ নথিপত্র রয়েছে, তাদের কোনো সমস্যা না থাকলেও অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

এই অভিযানের জেরে মুকুন্দপুরের হোটেল শিল্পে এক প্রকার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বহু হোটেল মালিক ইতিমধ্যে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার বা নিয়মমাফিক কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। প্রশাসনিক এই তৎপরতা শহরের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজ্যের কোনো প্রান্তেই আইন ভঙ্গ করে কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চলতে দেওয়া হবে না।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে শাসক দল বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং শহরের সুপরিকল্পিত উন্নয়নের খাতিরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুকুন্দপুরের এই ঘটনা এখন গোটা কলকাতার নজর কেড়েছে। আগামী দিনে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকার হোটেল মালিক এবং সাধারণ বাসিন্দারা।

এই অভিযানের সাথে জড়িত সঠিক কতগুলি হোটেল সিল করা হয়েছে বা কতগুলি হোটেলের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এই মুহূর্তে আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। তবে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং অভিযানের বিস্তারিত রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। শহরের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন যে কোনো রকম আপস করতে রাজি নয়, তা মুকুন্দপুরের এই অভিযানেই স্পষ্ট।