যাদবপুরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পাঁচটির মধ্যে চারটি গেট বন্ধ রাখবে বিশ্ববিদ্যালয়

কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা যাদবপুর এবং তৎসংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের পাঁচটি প্রবেশপথের মধ্যে চারটিই স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচলের স্বাভাবিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, ক্যাম্পাস চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার লক্ষ্যেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ক্যাম্পাসের অন্দরে অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা, যার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের ফলে যাদবপুর এলাকা দিয়ে গাড়ি চলাচলের পথ অনেকটা সংকুচিত হয়ে পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়া মূল রাস্তাটি এখন থেকে মূলত একমুখী বা সিঙ্গেল লেন হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে নিত্যযাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে বেশ কিছু সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর এলাকায় গাড়ির চাপ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। যানজট নিরসনে অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন রাখার পাশাপাশি বিকল্প পথ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে আগামী দিনে ওই অঞ্চলে এক বিশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, গেরুয়া শিবিরের একটি বড়সড় মিছিল বা র‍্যালিকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হবে নিরাপত্তার চাদরে। মিছিলের শান্তি ও শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় এক হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। উল্লেখ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় এই ধরণের মিছিলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা ভিন্ন ধরনের ছিল, তবে বর্তমানে বিজেপির শাসনাধীন পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তার মানদণ্ড অনেক বেশি কড়া রাখা হচ্ছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নতুন গেট নীতি এবং একই সঙ্গে ওই এলাকায় রাজনৈতিক র‍্যালি, এই দুই বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে ক্যাম্পাসের সুরক্ষা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ স্বস্তি প্রকাশ করলেও, অন্যদিকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যে বিপত্তি ঘটতে চলেছে, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় দোকানদার ও গাড়ি চালকদের মধ্যে। রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় ভিড়ের সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ট্রাফিক পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাফিক ডাইভারশনের ব্যাপারে এখনো বিস্তারিত নকশা প্রকাশ করা হয়নি। মিছিল চলাকালীন কোন কোন রাস্তা বন্ধ থাকবে বা কোন রাস্তা দিয়ে গণপরিবহন চলাচল করবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগ থেকে এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনড় অবস্থানে আপাতত ক্যাম্পাস চত্বরে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার কার্যত সীমাবদ্ধ হতে চলেছে। নিরাপত্তার নিরিখে এই কঠোর সিদ্ধান্ত কতটা ফলপ্রসূ হয়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। গোটা বিষয়টিতে শাসকদল বিজেপির কড়া নজর রয়েছে এবং বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেয়, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।