রিয়াদে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা, সৌদি আরবে থাকা নাগরিকদের সতর্কবার্তা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল আন্তর্জাতিক মহল। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটে যাওয়া এই হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের জন্য সৌদি আরবে বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। রিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ধরনের সরাসরি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিদেশ মন্ত্রক তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সৌদি আরবে বসবাসরত বা ভ্রমণরত ব্যক্তিরা যেন অত্যন্ত সাবধানে চলাফেরা করেন এবং জনবহুল এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেন।

হামলার পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের ঢেউ উঠেছে। হুথি বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি কেবল একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রই নয়, এটি লজিস্টিক ও যাত্রী পরিবহনের প্রধান করিডোর হিসেবে পরিচিত। সেখানে এমন আক্রমণ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথে চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বর্তমানে যারা সৌদি আরবে রয়েছেন, তারা যেন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ওপর নজর রাখেন এবং দূতাবাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন।

কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের তরফেও একই ধরনের বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাদের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে যে কোনো সময় পুনরায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে বিমানবন্দর বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামোর আশেপাশে থাকতে বারণ করা হয়েছে নাগরিকদের। যে সমস্ত স্থানে সরকারি কর্মী বা বিদেশী নাগরিকদের আনাগোনা বেশি, সেখানে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। তবে এই হামলার জেরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিয়ে সরকারিভাবে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে উল্লেখ্য, এই আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিও বেশ আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালের তুলনায় বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি করেছে শাসকদল বিজেপি। এদিকে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমাগত সরব। রিয়াদের এই সাম্প্রতিক ঘটনার রেশ যে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় প্রবাসীদের নিরাপত্তাও এখন নয়াদিল্লির উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে রিয়াদের ঘটনাটি বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে, তবে আগামী কয়েক দিন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নিজ নিজ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। হামলার ফলে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে যে অসুবিধা তৈরি হয়েছে, তা স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। রিয়াদের ঘটনার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও আকাশপথের নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও বিদেশ মন্ত্রকের ওয়েবসাইট নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।