২০২৫ সালে উৎপাদন শিল্পে গুদামের চাহিদা থার্ড-পার্টি লজিস্টিকস- এর

২০২৫ সালে কলকাতার রিয়েল এস্টেট এবং লজিস্টিকস সেক্টরে গুদামজাতকরণের চাহিদা বেশ স্থিতিশীল ছিল। যদিও সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে যে, লিজ দেওয়ার হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, তবুও এই মন্দার পিছনে চাহিদার অভাবকে দায়ী করছেন না বিশেষজ্ঞরা। এর পরিবর্তে উচ্চ জমির দাম এবং উন্নত মানের ‘গ্রেড এ’ (Grade A) জায়গার অভাবকেই এই স্লথ গতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ই-কমার্স এবং ৩পিএল (3PL) সংস্থাগুলি কলকাতার গুদামজাতকরণ বাজারের ৫০ শতাংশেরও বেশি অংশ দখল করে রেখেছে। অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বড় বড় ই-কমার্স সংস্থাগুলি তাদের ডেলিভারি নেটওয়ার্ক মজবুত করতে শহরের উপকণ্ঠে বড় জায়গা ভাড়া নিচ্ছে। একই সাথে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থার্ড পার্টি লজিস্টিকস সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়ায় এই ক্ষেত্রেও ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে।

ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন ক্ষেত্রটিও কলকাতার এই শিল্পে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করছে। উৎপাদন ভিত্তিক সংস্থাগুলি থেকে আসা চাহিদার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। বিশেষ করে ডানকুনি এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলি লিজ প্রক্রিয়ায় শীর্ষে রয়েছে। এই অঞ্চলটি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে লজিস্টিকস ব্যবসার জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

জমির আকাশচুম্বী দাম এবং পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গুদামঘরের ভাড়ার হার বা রেন্টাল বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। লিজ গ্রহণকারী সংস্থাগুলি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন গুদাম খুঁজছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় ‘গ্রেড এ’ স্পেসের যোগান কম থাকায় বাজারের গতি কিছুটা ধীর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি নতুন পরিকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়, তবে আগামী বছরগুলিতে কলকাতার ওয়্যারহাউসিং সেক্টর আবার পূর্ণ গতিতে ফিরবে।

বাজারের এই বর্তমান পরিস্থিতি নির্দেশ করে যে, লজিস্টিকস হাব হিসেবে কলকাতার গুরুত্ব কমেনি। বরং চাহিদার ধরণ বদলেছে। আগে যেখানে সাধারণ গুদামের চাহিদা ছিল, এখন সেখানে আধুনিক এবং টেকনোলজি নির্ভর স্টোরেজ ব্যবস্থার চাহিদা বাড়ছে। এই প্রবণতা বজায় থাকলে ৩পিএল এবং ই-কমার্স সংস্থাগুলি আগামীদিনেও লিজ বাজারের প্রধান অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবে। উৎপাদন শিল্পের বিকাশ এই চাহিদাকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।