সন্দীপন দাস, কলকাতা: রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক শোচনীয় পরিস্থিতি ও দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যপাল রবি। লোক ভবনে আয়োজিত রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যবৃন্দের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় বৈঠকে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষাকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজ্যপাল রবি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একাধিক জ্বলন্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে অন্যতম –
শূন্য অধ্যাপক পদ: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বর্তমানে পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশি অধ্যাপকের পদ শূন্য পড়ে রয়েছে, যা শিক্ষাদানের মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
আর্থিক বরাদ্দের অভাব: পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং গবেষণার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
সমাবর্তন বন্ধ: বিগত সাত-আট বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কোনো সমাবর্তন উৎসব অনুষ্ঠিত না হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা ও গবেষণায় জোর
শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে রাজ্যপাল রবি স্পষ্ট জানান যে, শুধুমাত্র ডিগ্রি দেওয়াই শেষ কথা নয়। বর্তমান শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাদান করতে হবে। এর জন্য শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে একটি সুদৃঢ় ও নিবিড় সহযোগিতা গড়ে তোলা জরুরি। দেশের প্রাণবন্ত উদ্ভাবনী পরিমণ্ডলকে কাজে লাগিয়ে গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনকে মেধাস্বত্ব (Intellectual Property), নতুন উদ্যোগ (Startups) এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে রূপান্তরিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
আর্থিক স্থায়িত্ব ও ক্যাম্পাস উন্নয়ন
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুন ও উদ্ভাবনী প্রয়াস নেওয়ার পরামর্শ দেন রাজ্যপাল। এই লক্ষ্যে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (Alumni) সাথে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
পাশাপাশি, ক্যাম্পাসের প্রাণময়তা ফিরিয়ে আনতে এবং জন-অংশীদারিত্বের চেতনাকে আরও সুগভীর করতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর মাধ্যমে ক্যাম্পাসগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার বার্তা দিয়ে বৈঠক শেষ করেন রাজ্যপাল।








