7th Pay Commission Update: ৭ম পে কমিশনের কার্যপরিধি ঘোষণা নবান্নের, ৫ শতাংশ বেতন-বৃদ্ধির ইঙ্গিত!

পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের জন্য মেগা আপডেট
 
ঐশী রায় চৌধুরী, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক বার্তা দিল নবান্ন। বহু প্রতীক্ষিত সপ্তম রাজ্য পে কমিশন গঠনের পর এবার কমিশনের সুনির্দিষ্ট ‘শর্তাবলি ও কার্যপরিধি’ (Terms of Reference) স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার। রাজ্য বাজেটে ৭ম পে কমিশন গঠনের ঘোষণার পর, নবান্নের এই পদক্ষেপ সরকারি কর্মী মহলে আনন্দের আমেজ তৈরি করেছে। বেতনের বার্ষিক বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মহার্ঘ ভাতা (DA), বাড়িভাড়া ভাতা (HRA), কিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট এবং পেনশন—একাধিক ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তনের খসড়া সামনে আনা হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, নয়া বেতন কমিশনকে কেবল প্রথাগত বেতন সংশোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মীদের সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের দিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মধ্যেই এই নতুন বেতন কাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা।
কমিশনের নির্দেশিকায় যে প্রধান বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তার মূল পয়েন্টগুলি নিম্নে আলোচনা করা হলো:
  • বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধি: বর্তমানে রাজ্যে ৩ শতাংশ হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (Annual Increment) হয়। নয়া কমিশনের কাছে সেটি বাড়িয়ে অন্তত ৫ শতাংশ করার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি কার্যকর হলে মূল বেতনের (Basic Pay) চক্রবৃদ্ধি হারে বড় ধরনের লাফ দেখা যাবে।
  • ন্যূনতম বেতনের নতুন সমীকরণ: জীবনযাত্রার খরচ ও মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঁচ সদস্যের পরিবারভিত্তিক দৈনিক ৩,৪৯০ ক্যালোরি পুষ্টির প্রয়োজনকে মাপকাঠি করে নতুন ন্যূনতম বেতন (Minimum Pay) নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
  • কেন্দ্রীয় পে লেভেলের সামঞ্জস্য: সর্বভারতীয় স্তরে রাজ্য কর্মীদের বেতন বৈষম্য দূর করতে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘Pay Level’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যের ‘Pay Matrix’ পুনর্গঠন এবং অচল পে লেভেলগুলিকে একীভূত করার চিন্তাভাবনা চলছে।
  • স্থায়ী DA ব্যবস্থা ও ভাতা পর্যালোচনা: অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI)-এর ভিত্তিতে নিয়মিত DA প্রদানের জন্য স্থায়ী নির্দেশিকা (Standing Order) তৈরির সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি HRA-এর সর্বোচ্চ সীমা সংশোধন, ট্রান্সপোর্ট অ্যালাউন্স, চাইল্ড এডুকেশন অ্যালাউন্স ও হোস্টেল সাবসিডি কেন্দ্রীয় হারে দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • ক্যারিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট ও সার্ভিস বেনিফিট: বর্তমানের ৮, ১৫ ও ২৪ বছরের ‘Career Advancement Scheme’ বদলে ৫, ৮, ১২, ১৮ ও ২৪ বছরের পাঁচ ধাপের কাঠামো চালুর প্রস্তাব রয়েছে, যাতে পদোন্নতি ও আর্থিক বৃদ্ধির সুযোগ আরও দ্রুত আসে।
  • পেনশনভোগীদের স্বস্তি: অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য ১১ বছর পর কমিউটেড পেনশন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবসরে লিভ এনক্যাশমেন্টের সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং ৩০ জুন অবসরপ্রাপ্তদের জন্য একটি ইনক্রিমেন্ট যোগ করার বিষয়টি কমিশনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
  • স্বাস্থ্য সুবিধায় জোর: ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর আওতায় ক্যাশলেস চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিসর বাড়ানো এবং চিকিৎসকদের ফি ও অন্যান্য সুবিধাদি আধুনিকীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মী সংগঠনের প্রতিনিধিরা নবান্নের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও মনে করাচ্ছেন, এগুলি সবই আপাতত কমিশনের পর্যালোচনার বিষয়। কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার পর রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরেই প্রতিটি সুবিধার রূপরেখা স্পষ্ট হবে। তবুও, দীর্ঘদিনের একাধিক দাবি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার মধ্যে আসায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের মুখে এখন চওড়া হাসির রেখা।