বিজেপিতে যোগ দিলেন ক্ষিতি কন্যা কস্তুরী: নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ শুরু

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। রাজ্যের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ এবং প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে কস্তুরী গোস্বামী গেরুয়া শিবিরে শামিল হয়েছেন। সোমবার বিজেপির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। কস্তুরী গোস্বামীর এই সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে, কারণ তাঁর বাবা দীর্ঘ সময় ধরে বামফ্রন্ট সরকারের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন এবং বামপন্থী আদর্শের প্রতি আজীবন অনুগত ছিলেন। কস্তুরী নিজে পেশায় একজন গবেষক এবং সমাজকর্মী হলেও, তাঁর রাজনৈতিক যোগসূত্র অনেক গভীর।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কস্তুরী গোস্বামী জানান যে, তিনি বর্তমান সরকারের দুর্নীতি এবং রাজ্যের অরাজক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “বাবার আদর্শ আমি সবসময় শ্রদ্ধা করি, কিন্তু আজকের দিনে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এবং বাংলার মানুষের পরিবর্তনের জন্য বিজেপিই একমাত্র বিকল্প।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বাম আমলের পরিবারের সদস্যদের বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। দলবদল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তারা কস্তুরীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে, শিক্ষিত এবং মার্জিত রুচির মানুষ যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন দলের ভিত্তি আরও মজবুত হয়।কস্তুরী গোস্বামী স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কোনো পদের মোহে বিজেপিতে আসেননি। বরং তিনি মানুষের সেবা করতে চান এবং রাজ্যের ভেঙে পড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত করতে সাহায্য করতে চান। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং পশ্চিমবঙ্গকেও সেই উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, বাম নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিশেষ কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তারা এটিকে কস্তুরীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন। তবে আরএসপি-র পুরনো কর্মীদের একাংশ এই ঘটনায় বেশ মর্মাহত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাম আন্দোলনের সাথে যুক্ত ক্ষিতি গোস্বামীর নাম বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত ছিল। তাঁর কন্যার এই ভিন্ন ধারার রাজনীতি গ্রহণ করাটা অনেকেই সহজভাবে নিতে পারছেন না।কস্তুরীর এই পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী সমীকরণে কতটুকু প্রভাব ফেলবে তা সময় বলবে। তবে বিজেপির জন্য এটি একটি বড় নৈতিক জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর আগেও বহু প্রাক্তন বাম এবং কংগ্রেস নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু ক্ষিতি গোস্বামীর মতো একজন নীতিনিষ্ঠ নেতার পরিবারের সদস্যের অন্তর্ভুক্তি দলকে এক নতুন পরিচিতি দিতে পারে। কস্তুরী গোস্বামী আগামী দিনে দলের হয়ে কোন বড় দায়িত্বে আসেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাঁর প্রভাব বিস্তারের একটি বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলার রাজনীতিতে বামপন্থার ক্ষয়িষ্ণু দশা এবং বিজেপির উত্থান—এই দুইয়ের মাঝে কস্তুরী গোস্বামীর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি তাঁর নিজস্ব মেধা এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করতে পারবেন, তা আগামী দিনেই পরিষ্কার হবে। রাজনীতির আঙিনায় কস্তুরী একটি নতুন অধ্যায় শুরু করলেন যা বাংলার সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।