তেলেঙ্গানার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় কারুশিল্পীদের জীবনমান উন্নয়নে এক অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি পরিবহন মন্ত্রী পন্নম প্রভাকর এই বিশেষ ‘জিআই অন হুইলস’ (GI on Wheels) উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (Geographical Indication) তকমা প্রাপ্ত পণ্যগুলোকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং পর্যটকদের কাছে এগুলোর পরিচিতি বাড়ানো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পন্নম প্রভাকর অত্যন্ত জোরালো ভাষায় এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, এই প্রকল্পটি মূলত রাজ্যের রাজ্যপালের একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি বা ভিশনেরই প্রতিফলন। সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে জিআই পণ্যগুলোর বাজারজাতকরণ এবং বিপণনের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। রাজ্য সরকারের পরিবহন দপ্তরের বাসগুলোকে এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা চলন্ত প্রদর্শনীর মতো কাজ করবে। তেলেঙ্গানার বিখ্যাত রৌপ্য শিল্প, পোচামপল্লি ইক্কাত এবং বিডরি মালের মতো পণ্যগুলো এই বাসের মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে প্রদর্শন করা হবে। বর্তমান সময়ে যখন আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রভাবে হস্তশিল্প অনেকটা অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে, তখন এমন উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাকে সচল করবে বলে মনে করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, এই ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীটি কেবল শহরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গ্রামীণ এবং পর্যটন এলাকাগুলোতেও এটি ঘুরে বেড়াবে। এতে করে সরাসরি কারিগরদের থেকে পণ্য কেনার সুযোগ তৈরি হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় শিল্পীরা। তারা মনে করছেন, বাসে করে পণ্য প্রদর্শনীর এই আইডিয়াটি অত্যন্ত কার্যকর কারণ এতে করে সাধারণ মানুষের সাথে একটি সরাসরি সংযোগ স্থাপন হবে। বাসের ভেতরে বিশেষ সেলফ এবং আলোকসজ্জার মাধ্যমে পণ্যগুলোকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তেলেঙ্গানা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (TSRTC) এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি নির্বাচিত রুটে এই বাসগুলো চালানো হবে এবং পরবর্তীতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই ট্যাগ মূলত কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশেষ গুণমান সম্পন্ন পণ্যের পরিচিতি নিশ্চিত করে। তেলেঙ্গানার হস্তশিল্পের এই বিশেষ মর্যাদা যাতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। পন্নম প্রভাকর আরও উল্লেখ করেন যে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে। ডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগে সরাসরি পণ্য দেখার এবং স্পর্শ করার অভিজ্ঞতা গ্রাহকদের মধ্যে অন্যরকম বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে। সরকারি সূত্রমতে, এই প্রকল্পের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে রেলওয়ে বা অন্যান্য গণপরিবহনেও জিআই পণ্য প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। তেলেঙ্গানা সরকারের এই উদ্যোগ ভারতের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও একটি মডেল হিসেবে গণ্য হতে পারে। হস্তশিল্প কেবল শিল্প নয়, এটি হাজার হাজার পরিবারের উপার্জনের পথ। তাই ‘জিআই অন হুইলস’ কেবল একটি প্রচার অভিযান নয়, এটি গ্রামীণ জীবনের আর্তসামাজিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।







